মেইন ম্যেনু

না খাওয়ার অপরাধে শিশুকে হত্যা

মায়ের মতো সন্তানকে আর কেউ আগলে রাখতে পারে না। কথাটির যথাযথ প্রমাণ মিললো যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি শহরে।

নিকি ব্রাউন নামে একজন নারী সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হলে তিনি তার তিন বছরের কন্যা সন্তানটিকে ডেনিয়াল টার্নার নামে একজন নারীর কাছে রেখে যান।

শিশুটির নাম ল্যাটরিস ওয়াডেন। নিকি ব্রাউন ডেনিয়ালকে নিজের বোনের মতো জানতো এবং সেই কারনে তার তিন বছরের মেয়েটিকে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান তার উপর।

ডেনিয়ালও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার মায়ের অবর্তমানে তিনি শিশুটির ভালোমতো দেখাশোনা করবেন। কিন্তু কথা দিয়েও কথা রাখতে পারেনি ডেনয়িাল।ডেনিয়ালের তৈরি খাবার না খাওয়ার অপরাধে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো তিন বছর বয়সী ল্যাটরিসকে।

ল্যাটরিসের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেনিয়ালের তৈরি করা খাবার না খাওয়ায় সে তাকে মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে শিশুটির নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার কিছুক্ষনের মধ্যে পাশের একজন প্রতিবেশী শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে তাতে ব্যার্থ হয়। পরে তিনি পুলিশে খবর দিলে তারা শিশুটিকে স্থানীয় এক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করে।

পরে পরিবারের তরফ থেকে ডেনিয়ালকে অভিযুক্ত করা হলে তাকে আটক করে পুলিশ।মেয়েকে হারিয়ে শোকে কাতর নিকি ব্রাউন বলেন,‘ আমি অনেক ভরসার সঙ্গে তাকে আমার মেয়েটিকে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। আমি ভাবতেও পারিনি সে এমন কাজ করবে’।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আমার ছেলে এবং মেয়েকে একসঙ্গে বড় করতে চেয়েছিলাম কিন্তু তা আর সম্ভব হলো না’। আমার মেয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং তাকে হত্যা করা হয়েছে।

বর্তমানে শিশু হত্যার এই মামলাটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে যেখানে শিশু নির্যাতন আইনে ডেনিয়ালকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউটর এটিকে পরিকল্পিত খুন বলে ধারণা করছেন। আগামি ২২ মার্চ মামলার শুনানি ধার্য করা হয়েছে।