মেইন ম্যেনু

না পারছি বড় বউকে ছাড়তে, না পারছি ছোট বউকে ছাড়তে…এখন কী করব?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ জানিয়েছেন তাঁর দুটি বিয়ে ও মানসিক সমস্যার কথা।

“আপু প্রথমে আমার সালাম রইলো। আশা করি ভাল আছেন। দয়া করে আমার নাম প্রকাশ করবেন না।

আমি একটি বিবাহিত ছেলে আমার বয়স ২৬। আমার বিবাহিত জীবন ৫ বছর। আমি লাভ ম্যারেজ করে বিয়ে করেছিলাম, আমার একটি বাচ্চাও আছে। আমার বিয়ের যখন এক বছর তখ,ন আমার দাম্পত্য জীবনে কিছু অশান্তি নেমে আসে। অশান্তি গুলো কিছুটা আমার , আবার কিছুটা ওয়াইফের। যেমন আমি ধুমপান করতাম এটা আমার ওয়াইফের পছন্দ ছিল না। এজন্য সংসারে অনেক ঝগড়া হত। আমি কিছু মনে করতাম না, কারণ এরকমটা হয়।

যখন দেখলাম আমার ওয়াইফ একটু কিছু হলেই সুইসাইড করার চিন্তা ভাবনা করে, তখন আমি মানসিক ভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হই। এক পর্যায়ে আমার মনে হত আমিও সুইসাইড করি, কিন্তু ফ্যামিলির দিকে তাকিয়ে সেটা পারতাম না। তার পর মনে হল একটা বাচ্চা নিয়ে নিই, তাহলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না, আরো বেশি হল। এজন্য আমার জীবনের কোন আশা/ ইচ্ছাকেই আর মুল্য দিচ্ছিলাম না।

তারপর হঠাৎই একদিন আমার আরো একটা ভুল হয়ে যায়, সেটা হল দ্বিতীয় বিয়ে। এখন আমার জীবনটাই বরবাদ । এখন আরো অশান্তিতে আছি। না পারি ছোট বউকে ছাড়তে, না পারি বড় বউকে ছাড়তে।

কিন্তু আমার ছোট বউ জানতো আমি বিবাহিত , তারপরও সে এখন আমার সাথে প্রথম সংসার নিয়ে ঝগড়া করে। এখন আমার মাঝে মাঝে মনে হয় আমি আত্মহত্যা করি। কিন্তু পারিনা একজনের জন্য সে হল আমার বাচ্চা। আপু প্লিজ please help me, আমি আর পারছিনা।”

পরামর্শ:

ভাই, আপনার সমস্যাটি আসলেই খুব জটিল। এবং আরও অনেক বেশী জটিল হয়ে গেছে দ্বিতীয় বিয়েটি করার পর। বড় বউ যে ধূমপান নিয়ে বাঁধা দিতেন, সেটা কিন্তু আপনার ভালোর জন্যই। আপনি তাঁর কথা না রাখায়, তিনি সম্ভবত মনে খুবই আঘাত পেয়েছিলেন। আপনাকে অনেক ভালোবাসতেন, তাই সেই আঘাতে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। ভয়ানক ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলেন। কিন্ত আপনি তখন তাঁর পাশে না দাঁড়িয়ে নিজের কথা ভেবেছেন, আরেকটি বিয়ে করেছেন। প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন, আপনার উচিত ছিল বিপদে তাঁর পাশে দাঁড়ানো। ভালোবাসা দিয়ে তাঁর কষ্ট কম করতে চেষ্টা করা। দুজনে মিলে মনরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেয়া বা ম্যারেজ কাউসিলিং করানো।

আপনি এখন যে সমস্যায় ভুগছেন, সেটা সম্পূর্ণ আপনার নিজের তৈরি। দ্বিতীয় বউ সব জেনেই যখন বিয়ে করেছে, আপনার তখনই খটকা লাগা উচিত ছিল। আমি জানিনা কী করলে আপনার জন্য ভালো হবে, কিন্ত আমি আপনার জায়গায় হলে যে কোন একজনকে বেছে নিতাম। হয়তো বড় বউকেই বেছে নিতাম কারণ তাঁর কোন দোষ নেই আর তিনি আপনার সন্তানের মা। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও সমঝোতা করে সংসার করতাম।

একটা জিনিস মনে রাখবেন, বিয়ে মানে অনেক বড় দায়িত্ব। প্রেম করে বিয়ে করা সেটার চাইতেও বড়। দাম্পত্যে কেবল নিজের সুখ আর নিজের চাহিদা নিয়ে ভাবলে কখনোই সুখী হতে পারবেন না। বারবার ফাঁদে পড়বেন এখন যেমন পড়েছেন। আপনি বরং নিজের পরিবারের সাহায্য নিন। পরিবার যা বলে সেটাই করুন। পরিবার কখনো আমাদের খারাপ চায় না।