মেইন ম্যেনু

নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হওয়ার বিস্ময়কর ৭ টি কারণ

নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ কেউ পছন্দ করেনা। এই বিব্রতকর ও বিরক্তিকর সমস্যাটি যাদের আছে তারা এটি থেকে মুক্তি পাওয়ার বা লুকানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য মানুষ সবচেয়ে প্রথমে যে কাজটি করেন তা হল দাঁত ব্রাশ করা, কিন্তু শুধুমাত্র ব্রাশ করে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করা যায়না। বিজ্ঞানীরা নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের কারণ নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন এবং তারা কিছু বিস্ময়কর কারণ খুঁজে বের করেছেন। সেই কারণগুলো জেনে নিই চলুন।

১। সকালের নাশতা বাদ দেয়া

সকালের নাশতা হচ্ছে সারাদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। সকালের নাশতা না খেলে লালাগ্রন্থি সক্রিয় হয়না, এর ফলে মুখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি আপনি নাশতা না করে দাঁত ব্রাশ ও কুলকুচি করলেও নিঃশ্বাস তেমন ফ্রেশ হবেনা।

২। কফি পান করা

কফি দাঁতে সামান্য দাগ সৃষ্টি করে এবং নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী বলে কফি প্রেমিকেরা নিশ্চয়ই সকালে কফি পান করা বাদ দেবেন না! কিন্তু কফি পানের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের সমস্যাটি কমাতে পারেন। এই পানীয়টি মুখকে শুষ্ক করে এবং যত বেশি পান করবেন সমস্যা তত বৃদ্ধি পাবে।

৩। ব্যাকটেরিয়া

আপনি হয়তো জেনে বিস্মিত হবেন যে আপনার মুখগহবর ভালো ও খারাপ উভয় ধরণের ব্যাকটেরিয়ারই আবাসভূমি। খারাপ ব্যাকটেরিয়া নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ সৃষ্টির জন্য দায়ী। একটি গবেষণায় জানা যায় যে, H. pylori নামের ব্যাকটেরিয়া হ্যালিটোসিস বা অস্বাভাবিক দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাসের সাথে সম্পর্কিত। যেহেতু এই ব্যাকটেরিয়া জিহ্বাতেই অবস্থান করে তাই দাঁত ব্রাশ করার সময় জিভটিও হালকাভাবে ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন।

৪। চুইংগাম

আপনার মুখের দুর্গন্ধ টের পেলেই আপনি হয়তো মুখে চুইংগাম পুরেন সমস্যাটির সমাধানের জন্য। গবেষণায় দেখা গেছে যে, জাইলিটল সমৃদ্ধ সুগার ফ্রি চুইংগামই কেবল দাঁতের ছিদ্র হওয়া ও নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে।

৫। মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে

নাক বন্ধ থাকলে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু অনেকের মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়ার অভ্যাস থাকতে পারে। তাদেরই নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যখন দীর্ঘ সময় যাবৎ মুখ খোলা থাকে তখন মুখ শুকিয়ে যায় আর শুষ্ক মুখ দুর্গন্ধ সৃষ্টির কারণ। তাই চেষ্টা করুন মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে।

৬। অনেক বেশি প্রোটিন খাওয়া

আধুনিক যুগের ফুড ট্রেন্ড হচ্ছে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া। প্রোটিন শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু যেকোন কিছুই মাত্রাতিরিক্ত হওয়া খারাপ। যারা ডায়েট করেন তারা কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খান। এটি নিঃশ্বাসের উপর প্রভাব ফেলে। এই ধরণের ডায়েটের কারণে আপনার নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে পারে। সুস্থ থাকার জন্য সব কিছু পরিমিত পরিমাণে করতে হয়।

৭। ফল ও সবজি কম খাওয়া

পর্যাপ্ত পরিমাণে তাজা ফলমূল ও শাকসবজি না খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ হতে পারে। তাজা ফলমূল ও শাকসবজি খেলে লালার উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত লালা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মুখ থেকে বের করে দেয়।

এছাড়াও নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ সৃষ্টির জন্য মুখে লেগে থাকা খাদ্য কণা, তামাক জাতীয় পণ্য, কিছু ঔষধ, মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি না মানা, মুখের ইনফেকশন ইত্যাদিও দায়ী।