মেইন ম্যেনু

নিখোঁজ বাংলাদেশী পরিবার আইএসের জিম্মায়

‘নিখোঁজ’ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের পরিবারটি এখন আইএসের তত্ত্বাবধানে। শুক্রবার জঙ্গি সংগঠনটি বিবৃতিসহ ওই পরিবারের সদস্যদের দুটি ছবি প্রকাশ করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। খবর বিবিসি।

তথাকথিত ওই বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পাঁচজন পুরুষ, চারজন নারী এবং তিনটি শিশুর ওই পরিবারটি ইসলামিক স্টেটসের সঙ্গে ‘বেশ নিরাপদে’ রয়েছে। তাদের অপহরণ ও বলপ্রয়োগ করে আইএসে যোগদান করানো হয়েছে- এমন খবরকে ‘ভয়ানক মিথ্যাচার’ বলেও দাবি করা হয় বিবৃতিতে।

বাংলাদেশ ঘুরে যুক্তরাজ্যে ফেরার পথে গত ১১ মে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুল থেকে উধাও হয়ে যায় ১২ সদস্যের ওই বাংলাদেশি পরিবারটি। ১৭ মে তাদের যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারের লুটন শহরে পেঁছানোর কথা ছিল। এর পর থেকে গুঞ্জন ওঠেছিল তারা আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় গিয়েছে।

ওই পরিবারের কয়েকজনের সঙ্গে উগ্রবাদীরদের সম্পর্ক থাকার ঘটনা জানার পর যুক্তরাজ্য পুলিশ ধারণা করছিল, ওই পরিবারটি আইএসের সঙ্গে ভিড়েছে।

তবে এই বিবৃতির যথার্থতা যাচাই করা যায়নি বলে বিবিসি জানিয়েছে। তবে বিবৃতির সঙ্গে যে ছবি দেওয়া হয়েছে, তাতে পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য মুহাম্মদ আবদুল মান্নানের ছবি রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তাদের অপহরণ কিংবা জোর করে নেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিবৃতিদাতা বলেন, ‘আইএস কাউকে বাধ্য করে না। আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পিত করার আহ্বান জানায়।’

আল কায়েদার পর ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে নামা আইএস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকটের সৃষ্টি করছে। ইসলামী দলটির সঙ্গে সিরিয়ায় কিছু অংশের দখলও নিয়েছে, সেখানে যুদ্ধ চলছে।

isis1436011240

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিবারটি এমন একটি ভূমিতে পৌঁছেছে, যা ‘দুর্নীতি ও আগ্রাসনমুক্ত’ এবং যেখানে ‘মুসলমানদের খলিফা’ ছাড়া আর কারো কর্তৃত্ব নেই।

এর কয়েকজন নারী সদস্য উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন জানিয়ে স্থানীয়রা বলছিল, গ্রেপ্তার এড়াতে তারাই পুরো পরিবারটি নিয়ে যুক্তরাজ্য ছাড়েন।

পরিবারটির সদস্যরা হলেন- মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান (৭৫), তার স্ত্রী মিনারা খাতুন (৫৩), তাদের মেয়ে রাজিয়া খানম (২১), ছেলে মোহাম্মদ জায়েদ হুসাইন (২৫), মোহাম্মদ তৌফিক হুসাইন (১৯), মোহাম্মদ আবিল কাশেম সাকের (৩১) এবং তার স্ত্রী সাঈদা খানম (২৭); মোহাম্মদ সালেহ হুসাইন (২৬), তার স্ত্রী রশানারা বেগম (২৪) এবং তাদের তিন সন্তান, যাদের বয়স এক থেকে ১১ বছর।

যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের আইএসে যোগদানের বিষয়টি প্রথম নয়। এর আগেও অনেকেই আইএসে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য ছেড়েছেন।

দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, তারা ওই বিবৃতিটি যাচাই করে দেখছে। পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি।



« (পূর্বের সংবাদ)