মেইন ম্যেনু

নিজামীর চূড়ান্ত ফাঁসির রায়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান। এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ‘ডন’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে শনিবার (৭ মে) খবরটি প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ডের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ব্যাপারে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করছি।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন।

নিয়ম অনুযায়ী, নিজামী এখন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। এ বিষয়টির নিষ্পত্তি হলেই তার দণ্ড কার্যকর করা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ মে) নিজামীর করা রিভিউ আবেদনের ওপর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। সেদিনই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন― বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আপিল বিভাগে বহাল থাকা মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ২৯ মার্চ রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন নিজামী। পরে রিভিউ দ্রুত শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ ৩০ মার্চ চেম্বার বিচারপতি কাছে আবেদন করে।

চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বিষয়টি ৩ এপ্রিল আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। সেদিন আদালত নিজামীর আবেদনের ভিত্তিতে এক সপ্তাহ সময় দেন। পরে আরও এক দফা সময় আবেদন মঞ্জুরের পর ৩ মে আপিল শুনানির দিন ধার্য হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছর ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ১৫ মার্চ। নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন দায়ের করেন নিজামী। ২৯ মার্চ দায়ের করা ৭০ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে মোট ৪৬টি যুক্তি তুলে ধরে সব দণ্ড থেকে খালাস চেয়েছেন তিনি।