মেইন ম্যেনু

নিজামীর ফাঁসি কার্যকর কবে?

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রিভিউ পিটিশন নিষ্পত্তি শেষে এ পর্যন্ত চার জনের ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয়েছে। এদের মধ্যে তিন জন জামায়াত নেতা (কাদের মোল্লা,কামারুজ্জামান ও আলী আহসান মুজাহিদ) এবং একজন বিএনপি নেতা (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী)।

আজ বুধবার জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিল নিষ্পত্তি হলো। আপিলে তার ফাঁসির আদেশ বহাল রয়েছে।এখন রিভিউয়ের অপেক্ষা।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, রিভিউ না হলে আইন অনুযায়ী নিজামীর রায় কার্যকর করা হবে। রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেছেন, আসামিপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার সুযোগ পাবেন। রিভিউ না হলে সরকার যে কোনো সময় রায় কার্যকর করতে পারেবে।

তবে এ পর্যন্ত যতজনের রিভিউ নিষ্পত্তি করা হয়েছে তাদের সবার ক্ষেত্রেই আপিলের রায়ই বহাল ছিল। নিজামীর ক্ষেত্রে তা বহাল থাকবে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তবে সাধারণ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। এর আগে মুজাহিদের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় আড়াই মাস পর এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পূর্ণাঙ্গ রায় দুই মাস পর প্রকাশ হয়েছিল।

যুদ্ধাপরাধ মামলায় নিজামীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন দাখিল করার সুযোগ পাবে। সে হিসাবে নিজামী যদি রিভিউ পিটিশন ফাইল করেন এবং সেখানে যদি রায় বহাল থাকে তাহলে বাকি থাকবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রার্থীনা। তবে মূল স্রোতের বাইরে রাষ্ট্রপতি এই ‍যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে দেবেন এমন আশা কেউ-ই করছেন না। তাছাড়া জামায়াতের আমির নিজামী ক্ষমা চাইবেন কি না তা নিয়েও জনমনে কৌতুহল রয়েছে।

তবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পর্ব শেষ হওয়ার পরই ফাঁসি কার্যকরের পালা। শেষ পর্যন্ত যদি নিজামীর ফাঁসি বহাল থাকে তাহলে আগামী এপ্রিলের আগে ফাঁসি কার্যকরের সম্ভাবনা নেই।

আইনজীবীরা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। সেটি হাতে পেলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে ট্রাইব্যুনাল। সেই মৃত্যু পরোয়ানা ফাঁসির আসামিকে পড়ে শোনাবে কারা কর্তৃপক্ষ।

পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবে আসামিপক্ষ। রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এবং তাতে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে আসামিকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ দেয়া হবে। তিনি স্বজনদের সঙ্গে দেখাও করতে পারবেন।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেলে সরকার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে নিজামীর।

তবে নিজামী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে রিভিউ আবেদন করবেন কি না সে বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, রিভিউ করা হবে কি না সে বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারছি না। তবে নিজামী চাইলেই অবশ্যই রিভিউ করা হবে। তিনি আরও জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পরেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে এ পর্যন্ত চার জনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। সাঈদীর আইনজীবীরা রিভিউর ব্যাপারে কোনো কথা না বললেও সরকার পক্ষের প্রধান আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন সাঈদীর সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে আমরা রিভিউ ফাইল করবো।

নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহালের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আরও সাতটি মামলার আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিলের শুনানি ২ ফেব্রুয়ারি। অন্যরা হলেন-মোবারক হোসেন, সৈয়দ কায়সার, এটিএম আজহার, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার, ফোরকার মল্লিক, মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটু। এ ছাড়া শুনানি চলার মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীম মারা যাওয়ায় তাদের আপিলের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে।



« (পূর্বের সংবাদ)