মেইন ম্যেনু

নিজামীর ফাঁসি কি নতুন কারাগারে?

রিভিউ খারিজের পর জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামির ফাঁসি কার্যকর এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর্ব ছাড়া সব আইনি প্রক্রিয়াই শেষ। বিশ্লেষকদের ধারনা এধরণের দাগি যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি দ- রাষ্ট্রপতির মওকুফ করবে এমনটা ভাবা যৌক্তিক নয়। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি কবেলই আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নাজিম উদ্দিন রোড থেকে কেরানিগঞ্জে সরিয়ে নেয়ার পর অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নিজামীর ফাঁসি ঠিক কোথায় কার্যকর হচ্ছে ? নতুন কারাগারে নয়তো? বলাবলি হচ্ছে- নিজামীকে দিয়েই নতুন কারাগারে তৈরি ফাঁসির মঞ্চের উদ্বোধন করা হতে পারে। তবে সব কারাগারেই অন্তত একটি করে ফাঁসির মঞ্চ থাকে। নিজামি বর্তমানে গাজিপুরের কাশিমপুর কারাগারে রয়েছে। আজ শুক্রবার সাকলে তার স্বজনরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সেখানেই। ঠিক কোথায় নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে- এ প্রশ্নের জবাবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেছে, নতুন কারাগারে নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে না এটা এক প্রকার নিশ্চিত। নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করার সম্ভবনাই বেশি। এখানে সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। এর আগে এই কারাগারে ৪ জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এছাড়া বিকল্প হিসাবে কাশিমপুর কারাগারও রয়েছে। ইতোমধ্যেই কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষকে ফাঁসি কার্যকরের সবধরনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, নিজামীর মতো হাইপ্রোফাইল এক যুদ্ধাপরাধীকে এতোটা পথ পাড়ি দিয়ে কেরানীগঞ্জের নেয়া যুক্তিযুক্ত হবে না। তাছাড়া এর আগে যে চারজন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে তাদের রিভিউ আবেদনের রায়ের আগেই কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু নিজামীর আপিলের রায়ের পরও তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে স্থানান্তর করা হয়নি। আজ শুক্রবার নিজামীর পরিবারও তাঁর সাথে কাশিমপুর কারাগারেই সাক্ষাত করেন। এতে অনেকে মনে করছেন, কাশিমপুরেও নিজামির ফাঁসি কার্যকর হতে পারে।

এদিকে, সবশেষ গত বছরের ২২ নভেম্বর কার্যকর হয় মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর ফাঁসি। এর আগে ১৮ নভেম্বর তাদের করা রায় পুনর্বিবেচনা খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। কিন্তু এর আগে ১৫ নভেম্বর এই শীর্ষ দুই যুদ্ধাপরাধীকে কাশিমপুর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।