মেইন ম্যেনু

নিজামীর শেষ মুহূর্তগুলো…

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সর্বোচ্চ নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে। ফাঁসির মঞ্চে বদরপ্রধান ‘স্বাভাবিক’ ছিলেন বলে কারাসূত্রে জানা গেছে। ফাঁসি কার্যকরের ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করেছেন বলেও জানায় কারাসূত্র।

রাত ৮টার দিকে নিজামীর পরিবারের ২৬ জন সদস্য কারাগারে পৌঁছান। শেষবারের মতো পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ পান তিনি। এসময় তাদের নিয়ে দীর্ঘ মোনাজাত করেন নিজামী।

সাক্ষাৎ শেষে নিজামীর এক ভাতিজি বলেন, সাক্ষাতে গিয়ে তারা চাচাকে (নিজামী) নামাজ পড়তে দেখেন। নামাজ শেষে সবার সঙ্গে তিনি সাবলীলভাবে কথা বলেন। এ সময় তিনি খুব শান্ত ছিলেন। সব শেষে তিনি বলেন, ‘আমি শক্ত আছি, তোমরা শক্ত থেকো।’

স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে নিজামীকে গোসল করানো হয়। গোসল শেষে কারা মসজিদের পেশ ইমাম তাকে তওবা পড়ান। এ সময় তিনি দুই রাকাত নামাজ পড়েন।

সর্বশেষ নিজামীকে সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাঁসির মঞ্চে তোলার আগে তাকে জমটুপি পরানো হয়। ওই সময় নিজামীকে কালেমা পড়তে শোনা যায়। জল্লাদ রাজুর নেতৃত্বে রাত ১২টা ১০ মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

ফাঁসি কার্যকরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রবিবার রাত ১১টার পর নিজামীকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। আপিল রিভিউ খারিজের বিষয়টি সোমবার রাতে নিজামীকে জানানো হয়। রিভিউ খারিজের রায় শোনার পর কিছুটা বিমর্ষ দেখায় নিজামীকে। রাতে অনেক দেরি করে ঘুমাতে যান তিনি। এর আগে নফল নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত করেন এই জামায়াত নেতা।

মঙ্গলবার খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন নিজামী। যথারীতি নামাজ আদায় ও কোরআন তেলাওয়াত করেন তিনি। এরপর কিছুটা সময় অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে পার করেন নিজামী। অন্য বন্দীদের সঙ্গে তাকেও সকালের নাশতা দেয়া হয়। নাশতায় ছিল দুটি রুটি ও এক বাটি ভাজি। একপর্যায়ে নিজামী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা যায় কি না, তা জানতে চান একজন ডেপুটি জেলারের কাছে। এছাড়া দিনভর অনেকটা চুপ ছিলেন তিনি।

সকালে নাস্তার পর ও দুপুরে একবার মেডিকেল চেকআপ করা হয়েছে নিজামীর। ডা. বিপ্লব কান্তি ও আহসান হাবিব এ পরীক্ষা করেন। তিনি সুস্থই ছিলেন বলে তারা জানান।

দুপুরে সর্বশেষ আইনি সুযোগ হিসেবে নিজামীর কাছে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়টি জানতে যাওয়া হয়। অবশ্য তিনি প্রাণভিক্ষা চাননি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

দুপুর ১২টায় নিজামীকে কারা কেন্টিন থকে দুপুরের খাবার দেয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টায় রাতের খাবার দেয়া হয়। এদিন বাইরে থেকে কোনো খাবার যায়নি নিজামীর কাছে।

এরপর সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফাঁসি কার্যকরের নির্বাহী আদেশ নিয়ে কারাগারে পৌঁছান জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির। একই সঙ্গে নিজামীর সঙ্গে দেখা করতে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়।