মেইন ম্যেনু

নিজাম হাজারীর এমপি পদের রায় ফের পিছিয়েছে

ফেনী-২ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর সংসদ সদস্য (এমপি) পদের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায় ঘোষণার দিন আবার পিছিয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩০ আগস্ট রায়ের নতুন দিন নির্ধারণ করেন।

নিজাম হাজারীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও নুরুল ইসলাম সুজন এমপি। অপরদিকে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী।

গত ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য রাখা হয়েছিল। তবে নিম্ন আদালতে বিচারের আগে নিজাম হাজারী কতদিন কারাভোগ করেছেন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা না দেওয়ায় ২৩ আগস্ট রায় ঘোষণার নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়। রায় ঘোষণার আগেই সেসব নথিপত্র রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে হাইকোর্টের জমা দিতে বলা হয়। সেইসব নথির ওপর সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) রায়ের জন্য ৩০ আগস্ট নতুন নির্ধারণ করা হয়।

‘আড়াই বছর সাজা কম খেটে বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷ এতে বলা হয়, ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু ২ বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

পরে ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া। আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁর মুক্তিলাভের পর ৫ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।

সে হিসেবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ছিলেন না। অথচ তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হয়েছেন।

রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ৮ জুন হাইকোর্ট রুল দেন। এরপর হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ এই রুল শুনানিতে বিব্রতবোধ করেন। শেষ পর্যন্ত বিচারপতি মো. এমদাদুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য পাঠান প্রধান বিচারপতি। এই বেঞ্চে চলতি বছর ১৯ জানুয়ারি রুল শুনানি শুরু হয়।

নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্যপদ নিয়ে দেওয়া রুল শুনানিতে গত ২৬ মে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ এক আদেশে বলেন, কারা কর্তৃপক্ষকে নিজাম হাজারীর সাজা ভোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে হবে। পরে কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়, ১০ বছরের সাজার মধ্যে তিনি সাজা খেটেছেন ৫ বছর ৮ মাস ১৯ দিন। কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাজা রেয়াত পেয়েছেন ১ বছর ৮ মাস ২৫ (৬২৫ দিন)। রেয়াতসহ মোট সাজা ভোগ করেছেন ৭ বছর ৫ মাস ১৪ দিন। এখনো সাজা খাটা বাকি আছে ২ বছর ৬ মাস ১৬ দিন।