মেইন ম্যেনু

নিজেদের শৈশবেই মা-বাবা হয়েছেন যারা!

প্রত্যেকটি মানুষই ইচ্ছে পোষন করেন ভবিষ্যতের মাঝে বেঁচে থাকবার। কোন না কোনভাবে পৃথিবীর ইতিহাসে নিজেকে একটু জায়গা দেয়ার। আর বেশিরভাগ মানুষই তাই অন্য কোনভাবে না পারলেও নিজের সন্তানের মাধ্যমে ভবিষ্যতের কাছে পৌঁছতে চান। হতে চান বাবা-মা। কিন্তু আর অনেকগুলো ব্যাপারের মতন এই আদি ও অকৃত্রিম প্রক্রিয়াটরও রয়েছে নির্দিষ্ট একটি সময়। জন্মের পর শারিরীক, মানসিক ও সামাজিকভাবে শিক্ষা লাভ করে ধীরে ধীরে একটা সময় মানুষ প্রস্তুত হয়ে ওঠে নিজের অনাগত সন্তানটির জন্যে। কিন্তু এখন আপনাদেরকে শোনাব এমন কিছু মা-বাবার কথা যারা নিজেরাই শৈশবের কোল ছেড়ে উঠতে পারেনি। খুব অন্যরকম আর পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে কমবয়েসী এমন কিছু বাবা-মা, যারা কিনা নিজের শৈশবেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তাঁদেরকে নিয়েই আজকের এই আয়োজন। তবে হ্যাঁ, বেশীরভাগ গল্পই আসলে মন খারাপের!

১. লিনা মেডিনা

ঘটনাটি ১৯৩৯ সালের। পেরুর টিক্রাপোর আনদিয়ার গ্রামের মেয়ে লিনা মেডিনার বাবা-মা হঠাৎ মেয়ের পেটে বাড়তি কিছুর আভাস পান। প্রথমে তারা ধরেই নেন যে মেয়ের পেটে টিউমার হয়েছে। চিকিৎসকের কাছেও সেটাই বলেন তারা। কিন্তু এর সাত মাস পরেই পুরো ঘটনাটি পাল্টে যায় যখন চিকিৎসক বুঝতে পারেন যে লিনার পেটে আসলে কোন টিউমার নয়, রয়েছে অন্য আরেকটি প্রাণ! ১৯৩৯ সালে জন্ম দেয় লিনা ছোট্ট একটি ছেলে শিশুর ( মিরর )। শিশুরটির বাবার খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভাই-বোনের মতন বেড়ে উঠতে থাকে লিনা ও তার ছেলে গেরার্ডো। ১৯৭৯ সালে মারা যায় গেরার্ডো। এরপরেও অবশ্য অনেকদিন বেঁচে থাকে লিনা। পরবর্তীতে তার বিয়ে হয় এবং আরো একটি সন্তানকে জন্ম দেন এই নারী।

২. লিজা

লিনার চাইতে বয়সে একটু বড় লিজার বাড়ি ছিল রাশিয়ায়। তখনো সেটা সোভিয়েটইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৩৪ সালে লিজার ভেতরে কিছু পরিবর্তন খেয়াল করেন তার বাবা-মা। পরবর্তীতে চিকিৎসকের মাধ্যমে মেয়ের শরীরে বাড়তে থাকা প্রাণটি সম্পর্কে নিশ্চিত হন তারা। ১৯৩৪ সালের আগস্ট মাসে একটি মেয়েশিশুর জন্ম দেয় লিজা ( স্নোপস )। শিশুটির বাবা কে- এই প্রশ্নটির উত্তরে বেরিয়ে পড়ে লিজার নানার নাম!

৩. গ্রিসেলডিনা এ্যাকুনা

প্রাকৃতিকভাবেই খুব দ্রুত মা হওয়ার জন্যে তৈরি হয়ে গিয়েছিল গ্রিসেলডিনার শরীর। শারিরীক পরিবর্তন হতে শুরু করে মাত্র তিন বছর বয়স থেকে। তখন তার বয়স মাত্র আট বছর দুই মাস। সেসময়ই গর্ভধারন করে এই শিশু মা আর ১৯৩৬ সালে জন্ম দেয় ফুটফুটে একটি ছেলেশিশুর ( স্নোপস )। পরিবার থেকে শিশুটির বাবা হিসেবে সন্দেহ করা হয় পারিবারিক একজন বন্ধুকে।

৪. মুম-জি

এবারের মায়ের কথা আরো একটু আগেকার। তাও শহুরে কোন স্থানে নয়। নাইজেরিয়ার কালাবার দ্বীপে বাস করত মুম-জি। সেখানেই খুব কম বয়সে মা হয়ে যায় সে। ১৮৮৪ সালের আগস্ট মাসে মাত্র আট বছর চার মাস বয়সে ফুটফুটে একটি শিশুর জন্ম দেয় এই শিশু ( স্নোপস )। তবে কেবল সেই নয়। তার মেয়েও খুব কম বয়সে মা হয় আর মাত্র ১৭ বছর বয়সেই মুম-জি হয়ে যায় পৃথিবীর সবচাইতে কনিষ্ঠ নানী!

৫. সিন স্টুয়ার্ট

এতক্ষণ তো কেবল কমবয়সী মায়েদের কথাই হল, কিন্তু এবার যার কথা বলব সে মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবা হয়ে যায় ( স্টোরিও )। নিজের চাইতে বয়সে বড় এমা ওয়েবস্টারের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে ১২ বছর বয়সী সিনের আর সেখান থেকেই একটা সময় বাবা হয় সে। পরবর্তীতে অবশ্য এমা সিনকে ছেড়ে যায় আর বাচ্চাকে নিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয় সিনকে।