মেইন ম্যেনু

নিজের অজান্তেই যেভাবে আকর্ষণহীন হয়ে পড়ছেন আপনি

প্রত্যেকেই চায় মহান, সদয় যত্নশীল এবং সহানুভূতিশীল হতে। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটা সব সময় খাটেনা। কিছু বদভ্যাসের ফলে মানুষ ক্রমশ আকর্ষণহীন ও বিরক্তিকর হয়ে পড়ে অথবা এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে তার কাছাকাছি কেউ থাকতে চায় না। এমন কিছু বদভ্যাসের কথাই আজ আমরা জেনে নিব। আপনি মিলিয়ে দেখতে পারেন এই বদভ্যাসের কোনটি আপনার আছে কিনা! যদি থাকে তাহলে আজই সেটা বাদ দেয়ার চেষ্টা করুন।

১। আপনি আত্ম-নিমগ্ন

অনেক মানুষই উপলব্ধি না করে এই আচরণটিতে অভ্যস্ত হয়ে পরে। আপনি কেবলমাত্র নিজের বিষয়েই কথা বলেন এবং প্রায়ই অন্যে কি বলছে তার প্রতি মনোযোগ দেন না। আপনি নিজেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। যদি এটি আপনার মধ্যে থেকে থাকে তাহলে আপনার পরিবর্তনের সময় এসেছে। কেউই এমন বন্ধু চায়না যে কিনা শুধুমাত্র নিজেকে নিয়েই চিন্তা করে।

২। আপনি ভিতরের সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করে বাহ্যিক সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেন

সত্যিকারের সৌন্দর্য আসে হৃদয়, শরীর ও আত্মা থেকে। আপনার বাহ্যিক চেহারা বিবেচনার বিষয় নয়। আকর্ষণহীন আচরণের মানুষরা মনে করে যে, মানুষের বাহ্যিক রূপটাই আসল। আয়নায় নিজের দিকে গভীর ভাবে তাকান তাহলেই এর পেছনে লুকানো মিথ্যা দেখতে পাবেন। আপনি যদি আপনার চিন্তার পরিবর্তন না করেন তাহলে নিজেই একজন কুশ্রী ব্যক্তিতে পরিণত হবেন।

৩। আপনি সর্বদাই প্রতিযোগীতার মনোভাব পোষণ করেন

আপনি কি সেই মানুষ যে সব সময় অন্যদের চেয়ে ভালো ও আরো বেশি কিছু আশা করেন? যদি এমনটাই হয় তাহলে আপনি অনাকর্ষণীয় ব্যক্তি। আপনার উচিৎ আপনার বন্ধুদের বিষয়ে আরো যত্নশীল হওয়া। তাঁদের মুহূর্তগুলো উদযাপন করুন যেমন- যদি উচ্চতা ভীতি আছে আপনার এমন কোন বন্ধু তার ভয়কে জয় করে ১০ ফুট পর্যন্ত উঠতে পারে তাহলে তাকে এইটা বলবেন না যে, “কেবল এই? আমি ৩০ ফুট পর্যন্ত উঠেছিলাম”! এর পরিবর্তে বলুন, “দারুণ করেছো! আমি তোমাকে নিয়ে গর্ববোধ করি”।

৪। আপনি আপনার বন্ধুদেরও শত্রু হিসেবেই দেখেন

আকর্ষণহীন ব্যক্তি প্রায়ই বন্ধুদের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন। আপনি তাদের সাহায্য করার পরিবর্তে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেন। আপনার বন্ধুরা আপনার শত্রু নন বরং তারা আপনার মিত্র।

৫। অন্যদের কাছে আপনার গুরুত্ব কত তা নিয়ে আপনি সন্ধিহান

কেন অন্যরা আপনাকে ততটা গুরুত্ব দিচ্ছেনা যতোটা আপনার প্রাপ্য – এই বিষয়টিকে আপনি যতবেশি চিন্তা করবেন ততই আকর্ষণহীন হয়ে পড়বেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, হয়তো আপনার দুই বন্ধু আপনাকে ছাড়াই কোথাও গেছে, এই বিষয়টি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তাদের কাছে নয়। এটা ভুলে যান, কারণ তারা এখনো আপনার বন্ধুই আছেন, আপনি তাদের পাশে না থাকলে তাদের জীবন থেমে থাকবেনা।

আপনি যদি বন্ধুদের সামনে আপত্তিকর বা বিব্রতকর কথা বলেন বা অভদ্র আচরণ করে থাকেন তাহলে মানুষ আপনাকে এড়িয়ে যেতে চাইবে। আপনি যদি সব সময় অন্যের চিন্তা ভাবনার গুরুত্ব না দিয়ে সব সময় নিজের সিদ্ধান্ত চালিয়ে দিতে চান তাহলেও আপনাকে কেউ পছন্দ করবেনা। আপনি যদি অন্যের কাছ থেকে সাহায্য নেন কিন্তু তার প্রয়োজনে আর তাকে সহযোগিতা না করেন তাহলে আপনি সেই মানুষটির আস্থা হারাবেন চিরদিনের জন্য। নেতিবাচক ও অসৎ মানুষ থেকে মানুষ সব সময় দূরে থাকতেই পছন্দ করে। তাই নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচক ভাবে চিন্তা করুন এবং সৎ থাকুন।