মেইন ম্যেনু

নিজের চেহারা নিয়ে হীনমন্যতায় দূর করার উপায়

‘আগে দর্শনধারী পরে গুনবিচারী’- এই নীতিতে বিশ্বাসী আমাদের সমাজে বসবাসরত বেশিরভাগ মানুষ নিজের বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য হীনমন্যতায় ভোগেন। নিজেকে আয়নায় দেখে অন্যের সাথে তুলনা করে অন্যের মত ভাবা শুরু করেন আপনিও। হয়তো প্রকাশ করেন না কিন্তু মনে মনে সব সময় এই নিয়ে কষ্ট পান, ভাবতে থাকেন আর একটু সুন্দর চেহারা হলে কি এমন ক্ষতি হতো। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি এই চেহারা এই সৌন্দর্য কতদিনের? যত সুন্দর মানুষই হোক, সময়ের সাথে সাথে তার সৌন্দর্য মলিন হবেই। মলিন হবেনা শুধুমাত্র তার ভেতরের মানসিক সৌন্দর্য। একজন সুন্দর মনের মানুষ সর্বদাই সুন্দর মনের অধিকারী থাকবেন তা তার চেহারা যেমনই হোক না কেন। তাই নিজের চেহারা নিয়ে বিষণ্ণতা, হীনমন্যতা মুছে ফেলার উপায়গুলো দেখে নিন এবং মনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করুন।

অন্য কারো সাথে নিজের তুলনা করবেন না
আপনি যা, তাই হিসেবে নিজেকে গ্রহন করার চেষ্টা করুন। অন্য কারো সাথে নিজের তুলনা করবেন না। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে আপনার মত করেই তৈরি করেছেন। আপনি যেমনটি হলে আপনার জন্য মঙ্গলজনক ঠিক তেমনভাবেই সৃষ্টি করেছেন। অন্য কারো মত করে তৈরি করেন নি। অন্য কারো মত হতে গিয়ে নিজের ভেতরের সৌন্দর্যকে হারিয়ে ফেলবেন না। অনেক সময় অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করতে গিয়ে আপনি নিজের সত্ত্বা হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই এই ভুলটি কখনো করতে যাবেন না। অনেক সময় হয়তো আশেপাশের মানুষ আপনাকে অপর একজনের সাথে তুলনা করে কথা বললে আপনার খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু ভেবে দেখুন, যে মানুষটি শুধুমাত্র আপনার বাইরের সৌন্দর্যের প্রেক্ষিতে আপনাকে কথা শোনাচ্ছে তার মানসিকতা কতোখানি কুৎসিত। সুতরাং সব ভুলে গিয়ে নিজের মানসিক সৌন্দর্য বাড়ান।

আত্মবিশ্বাসী হন
নিজেকে ভালবাসুন। নিজের মনকে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত করুন। আত্মবিশ্বাস বাড়ান। অন্যের কথা কান দিয়ে নিজেকে ছোট করবেন না। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। মন থেকে সকল হীনমন্যতা ঝেড়ে ফেলে নতুন করে সব কিছু শুরু করুন। আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিজের পায়ে দাড়াতে শিখুন। হীনমন্যতা নিয়ে বসে থাকলে কোন কাজেই সফলতা পাবেন না। নিজেকে সফল ব্যক্তিদের কাতারে দাঁড় করাতে শিখুন। যে আপনাকে পছন্দ করবে সে আপনার সব কিছুকেই পছন্দ করবে এইরকম ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করুন।

সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করুন
গঠনমূলক কাজে যোগ দিন। যেসব কাজে আপনার দক্ষতা আছে সেসব কাজ করুন। গান, নাচ, ছবি আঁকা, বই লেখা ইত্যাদি কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন। নিজের পরিচয় গঠন করুন। মনে রাখবেন, মানুষ চেহারা দিয়ে মানুষকে মনে রাখে না। বরং তার কাজে মনে রাখে। সুন্দরের পিছনে লুকিয়ে থাকা ধ্বংসাত্মক কাজের চেয়ে, অসুন্দরের ভেতরে থাকা গঠনমূলক কাজের মূল্য বেশি। আপনি আপনার চেহারা নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগে আপনার ভেতরকার সৃজনশীল ও উন্নত মনকে সব কিছু থেকে গুতিয়ে রাখবেন না। নিজেকে সফল মানুষ হিসেবে পরিচিতি পেতে দেখলে আপনা আপনিই আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

নিজেকে সময় দিন
নিজেকে বোঝার সময় দিন। নিজেকে কিভাবে সফলতা উপহার দিতে পারবেন সে কথা ভাবুন। সব সময় নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করে হীনমন্যতায় পরে থাকবেন না। আপনি নিজে যেমন সমাজে ঠিক তেমন ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করুন। প্রথমে নিজেকে সম্মান করতে শিখুন। নিজের ব্যক্তিত্বকে ভালবাসতে শিখুন। কারো প্রশংসা কুড়ানোর জন্য তার কথা মত নিজেকে তৈরি করবেন না। আপনার ভেতরের আলোকিত সৌন্দর্য কাউকে বোঝাতে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, যে আপনাকে বোঝে তাকে আপনি কী তা নতুন করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই, আর যে আপনাকে বোঝে না তাকে বোঝাতে যাওয়ারও কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। তাই এইসবে সময় নষ্ট না করে নিজেকে সময় দিন।

ব্যস্ত থাকুন
নিজেকে একটি ছকে বেঁধে ফেলুন। জীবনে ব্যস্ততা বাড়ান। কারন অলস ভাবে বসে থাকলেই নানান অপ্রাসঙ্গিক চিন্তা মাথায় ঘোরে ফলশ্রুতিতে আপনি নিজেকে নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করে হতাশ হয়ে পড়েন। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকুন। সফলতার লক্ষ্যে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যান। নিজের কাজে ব্যস্ত থাকুন। অন্যের কথায় কান দেয়ার মত সময়ই পাবেন না। আশেপাশের মানুষ আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে কী বলল তা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। যে মানুষগুলি বর্তমানে আপনার চেহারা নিয়ে কথা বলছেন ভবিষ্যতে আপনার সফলতার কথা বলবেন।