মেইন ম্যেনু

নিজে সামলে কাটিয়ে উঠুন ডিভোর্সের ভয়

মানুষ জীবন কোন একটি বা দুইটি ঘটনার সমষ্টি নয়। এতে আছে হাজার হাজার ঘটনা, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের গল্প। অদ্ভুত সব মোহময়তা আর হৃদয়বিদারক কিছু কষ্ট। এখানে যেমন আছে প্রেম, বন্ধুত্ব, ভালোবাসার মতন শব্দ। তেমনি রয়েছে বিচ্ছেদ, ঘৃণা বা বিদ্বেষের মতন কিছু না বলতে চাওয়া কথাও। তবে কষ্টের সাথে সাথে বাস্তবতার কর্কশ চেহারাটাও বেরিয়ে পড়ে একজন মানুষের সামনে যদি সেটা হয় বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স। কী হবে এরপর? কী করে চলবে জীবন? কার সাথে? বাচ্চাদের কী হবে? আর পরিবারের? সবটা মিলিয়ে বেশ ভয়ংকর এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে যায় ডিভোর্সের ভেতর দিয়ে যাওয়া যেকোন মানুষের সামনে। কিন্তু যতটা ভয়ংকর আর কষ্টদায়কই হোকনা কেন, এর ভেতর দিয়ে মানুষকে যেতে হয় আর সাজাতে হয় জীবনকেও আবার নতুনভাবে। আর তাই আসুন জেনে নিই ডিভোর্সের এই ভয়কে কাটিয়ে তোলার কিছু কার্যকরী উপায়।

১. নিজের ভয়গুলোকে লিখে ফেলুন

একটা খাতা-কলম নিয়ে বসে পড়ুন। কিংবা ল্যাপটপ বা ফোন- যেটাতেই হোক না কেন কয়েকটা লাইন লেখার চেষ্টা করুন। না, কোন গল্প বা কবিতা নয়। লিখে ফেলুন আপনার ভয় পাওয়ার সমস্ত ব্যাপারগুলো নিয়ে। বা সেগুলো লিখুন যেগুলো থেকে আপনি সামনে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন।

২. নিজের প্রতি সৎ হন

প্রতিদিন হাজাররকম ভান করি আমরা। কখনো অন্যের সাথে, কখনো বা নিজের সাথে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে নিজের অনুভূতিকে না এড়িয়ে গিয়ে পুরোপুরি সৎ হবার চেষ্টা করুন নিজের সাথে। নিজের কাছে নিজেকে না লুকিয়ে সত্যের মুখোমুখি হোন। যেটা যেটা নিয়ে ভয় পাচ্ছেন তার সবগুলোই লিখে ফেলুন। কারণ আপনার কোন ভয়ই পুরোপুরি অযৌক্তিক, বোকামি বা অকারণ নয় । এর ভেতরে আসতে পারে-

ক. শ্বশুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা

খ. বাবার বাড়ি আর বন্ধুদের কাছ থেকে সমালোচিত হওয়া

গ. বাচ্চাদেরকে আর না দেখতে পারা

ঘ. আর কখনো খুশি না হতে পারা

ঙ. নিজের জমানো টাকা খরচ হয়ে যাওয়া

চ. উকিলের কাছে দীর্ঘদিনের জন্যে দৌড়ানো ইত্যাদি।

মনে রাখবেন এখানে কোন সীমাবদ্ধতা নেই। আর তাই আপনার মনে যা যা আছে লিখে ফেলুন।

৩. প্রতিটি ভয়ের সম্ভাব্য সমাধান লিখুন

এবার চলে আসছে সবচাইতে কঠিন প্রক্রিয়াটি। আর এটি হচ্ছে প্রতিটি ভয় যেগুলো আপনি একটু আগে লিখলেন সেটার নীচে সেটাকে মোকাবেলা করার বা তা থেকে বেরিয়ে আসবার কী কী উপায় আছে সেটা লিখে ফেলুন। এটা হতে পারে এমন যে-

ভয়- বাবার বাড়ি আর বন্ধুদের কাছে সমালোচিত হওয়া

সমাধান- তাদের কাছে নিজেকে সত্ভাবে উপস্থাপন করব। তাদেরকে বোঝাব। তবে তাতেও যদি যারা না বোঝে তাহলে নিজেকে নিজের কাছে আরো দূর্বল বানিয়ে দিচ্ছে যারা তাদের থেকে দূরে থাকাটাকেই ঠিক মনে করব। দরকারে মনরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাব ।

ডিভোর্স একটা ভয়াবহ ঘটনা সন্দেহ নেই। কিন্তু অনেকের জীবনেই এই তিক্ত পর্যায় আসে। আর এর মোকাবেলা যখন করতেই হবে, তখন সাহসের সাথে মোকাবেলা করলেই যথেষ্ট। আর এতেই জীবনের বিপর্যয় গুলো কাটিয়ে উঠতে পারবেন আপনি।