মেইন ম্যেনু

‘নিমিষেই দেড় হাজার টাকা মেরে নিল’

‘একটি মোবাইল নম্বর থেকে মেসেজ এলো। এর কিছুক্ষণ পরই ওই নম্বর থেকে কল এলো। ফোনের ওই প্রান্তের লোকটি কেঁদে কেঁদে বললেন, ভাই বাসায় টাকা পাঠাতে গিয়ে ভুল করে দেড় হাজার টাকা আপনার নম্বরে চলে গেছে। দয়া করে টাকাটা ফেরত পাঠান। আমি গরিব মানুষ। আমার কাছে আর কোনো টাকা নেই। লোকটি মুহূর্তে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে কলটি কেটে দেয়। এরপর ওই লোকটির কথামতো সঙ্গে সঙ্গেই দেড় হাজার টাকা বিকাশ করে পাঠাই।’

এভাবেই প্রতারিত হওয়ার বর্ণনা দিলেন একটি বড় ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস কোম্পানির কর্মচারী সাইফুল।

সাইফুল জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ০১৮২৮২৪৬৩৮৮ নম্বর থেকে তার ০১৭৮৩১১৬১৫৪ নম্বরে একটি এসএমএস আসে। এতে লেখা ছিল- cash In tk 1500.00 from 01828246388 successful. Fee Tk 0.00. Balance Tk 1500.15. TrxID 3717254333 at 1/12/2015 17:11. এই এসএমএস আসার কিছুক্ষণ পর একই নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের ওই প্রান্তের লোকটি কেঁদে কেঁদে টাকাটা ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানান। টাকা ফেরত না পাঠালে তিনি অনেক বিপদে পড়বেন বলে জানান। তিনি একটি বিকাশ নম্বর (০১৭১৬৪৩১৩৯২) দিয়ে তাতে বিকাশ করতে বলেন। তার কথামতো টাকা পাঠিয়ে দেন সাইফুল। এর আগে ব্যালেন্স চেক করা হয়নি। টাকা পাঠানোর পর ব্যালেন্স চেক করে দেখা যায় ওটি ছিল ভুয়া এসএমএস। সাইফুলের বিকাশ অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই আসেনি। সঙ্গে সঙ্গে ওই প্রতারকের নম্বরে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ কথা পরিচিত জনদের জানালে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেন সাইফুলকে।

সাইফুল সবার উদ্দেশে বলেন, ‘এ ধরণের মেসেজ এলে, আগে ব্যালেন্স চেক করা উচিত। তা নাহলে আমার মতো সবাইকে ঠকতে হবে। এ ঘটনায় আমি অবাক, নিমিষেই দেড় হাজার টাকা মেরে নিল!’

গত সপ্তাহে একজন নারী চিকিৎসক জানান, হঠাৎ তার মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস আসে। ঠিক যেভাবে বিকাশের এসএমএস আসে। এর কিছুক্ষণ পর ওই নম্বর (০১৯৯০৯২৫১১২) থেকে একটি কল আসে। বলে, বাবার কাছে তিন হাজার টাকা পাঠাতে গিয়ে ভুল করে আপনার কাছে চলে গেছে। দয়া করে ০১৭৩৩০৩৯২৯৩ নম্বরে টাকাটা পাঠান। তখন তিনি ফোন কলটি কেটে দিয়ে বিকাশের ব্যালেন্স চেক করেন। দেখেন, শুধু এসএমএস এসেছে। কিন্তু বিকাশ অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা যোগ হয়নি।

পরে ওই নম্বর থেকে আবার কল আসে। বলে, ‘আপু টাকাটা পাঠাবেন না?’ তখন তিনি (নারী চিকিৎসক) বলেন, ‘আমি কি মূর্খ, চাইলেই আপনাকে টাকা পাঠাবো? ভণ্ডামি কতদিন থেকে করেন? এভাবে কতদিন থেকে চলেন? আমি আপনাকে কোনো টাকা দিতে পারব না।’

এসব কথা শোনার পর ওই নম্বর থেকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। ওই নারী চিকিৎসক এসব গালি হজম করেই ফোনটি কেটে দেন বলে জানান।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ প্রশাসন কি এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেবে না। এভাবেই কি সাধারণ মানুষ এসব বাজে লোকদের দ্বারা হয়রানির শিকার হবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির পর এখন নতুন করে বিকাশ পার্টি মাঠে নেমেছে। এর আগে এ ধরণের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কেউ ভুক্তভোগী হয়ে থাকলে তা অভিযোগ আকারে পেশ করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুনতাসিরুল ইসলাম জনগণকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোনো মেসেজ এলে তা চেক করতে হবে। বিকাশের ক্ষেত্রে ব্যালেন্স চেক করতে হবে। বিষয়টি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে তা নিকটস্থ থানায় জানান। আর ঘটনা যা-ই ঘটুক না কেন, এসব অপরাধীকে ধরতে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।

তবে গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, ঢাকায় বর্তমানে যারা এসব করছেন, তারা মূলত বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের লোক। এসব অপরাধীকে মোটামুটি চিহ্নিত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।



« (পূর্বের সংবাদ)