মেইন ম্যেনু

নিম্নচাপের প্রভাব আরও ২ দিন : বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি নিম্নচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে, এ জন্য চট্টগ্রাম এলাকায় ভূমি ধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ভারী বর্ষণে কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও বান্দরবন জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

এ ছাড়া নিম্নচাপের প্রভাব আরও দু’দিন থাকবে, সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর ও অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরগুলোর জন্য দুই নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া বিভাগ।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সোমবার জানিয়েছে, সুরমা, কুশিয়ার, কপোতাক্ষ, মুহুরী, হালদা, সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সোমবার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি একই এলাকায় কার্যত স্থির অবস্থায় আছে। এটি সোমবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮০কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১০কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল।

এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এটি আরও ঘণীভূত হতে পারে।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টয় ৪০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর মাঝারি ধরনের উত্তাল রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবতী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ভারী বর্ষণের সতর্কবাণীতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ী এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমি ধসের শঙ্কা রয়েছে।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ডিউটি অফিসার ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বর্ষণ হচ্ছে যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকতে পারে। এতে কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।’

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল সিলেট ছাড়া দেশের প্রায় সব এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে টেকনাফে ৩৩১ মিলিমিটার। ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ২৭ মিলিমিটার।

বন্যা ও ভূমি ধসে ক্ষয়ক্ষতি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান কেন্দ্রের সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার পৌর এলাকায় মাটিচাপা পড়ে ৫ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ২ জন। এ ছাড়া কক্সবাজার পৌরসভায় এক, রামু উপজেলায় ১, সদর উপজেলায় ১, চকোরিয়া উপজেলায় ৩ জনসহ মোট ৬ জন পানির স্রোতে ভেসে ও দেয়ালচাপা পড়ে মারা গেছেন।

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় ৮৭০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বান্দরবানের সদর, লামা ও রুমা উপজেলায় মোট ৯৬টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাত উপজেলার ২৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে মোট ৫ হাজার ২৭৪টি পরিবার আশ্রয়গ্রহণ করেছে।

চট্টগ্রামে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন উপজেলার ১৪২টি ইউনিয়ন, ৫টি পৌরসভার নিম্নাঞ্চল ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। চট্টগ্রামের দেড় লাখ লোক খুব বেশি, চার লাখ বেশি, সাড়ে চার লাখ লোক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫ হাজার ২৫৬ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৭ হাজার ৩৯৩ একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২২ হাজার ৭০৯ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেরার শেওলা ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম ও কুড়ার বাজার ইউনিয়নের একটি গ্রাম আংশিক প্লাবিত হয়েছে।দ্য রিপোর্ট