মেইন ম্যেনু

নিরাপত্তার এত কড়াকড়ি কখনও দেখেনি শোলাকিয়া

ঈদুল ফিতরের দিন দেশের সবচেয়ে বড় জামাতে জঙ্গি হামলার চেষ্টার কারণে ঈদুল আযহায় গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। জঙ্গিরা যেন নাশকতা করতে না পারে সে জন্য প্রবেশ পথ ও ময়দানের ভেতরে অবস্থান নিয়ে আছে সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী।

প্রথম বারের মতো ঈদগাহ মাঠের তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হচ্ছে তিন প্লাটুন বিজিবি। র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দাদের সঙ্গে কাজ করবেন তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। ঈদের জামাতে শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকলেও এত নিরাপত্তার আয়োজন কখনও করা হয়নি এই ময়দানকে ঘিরে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের দিন মাঠের আধা কিলোটার দূরে জঙ্গি হামলা পুলিশ জীবন দিয়ে প্রতিহত করেছে। তবে এবার যেন কেউ নাশকতার জন্য যেতেই না পারে, সে জন্য অধিকতর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এবার প্রতিটি মুসল্লিকে অন্তত তিনবার তল্লাশির পর মাঠে ঢুকানো হবে। মাঠে তাদেরকে জায়নামাজ ছাড়া আর কোনো কিছু নিয়ে ঢুকতে দেয়া হবে না।’

নরসুন্দা নদীর তীরে গড়ে উঠা ঐতিহাসিক ময়দানটিতে দেশে বিদেশের মুসল্লিরা ঈদের জামাত আদায় করে থাকেন। বছর বছর বাড়ছে মুসল্লির সংখ্যা। দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহে এবার ১৮৯ তম জামাতের জন্য এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। সকাল নয়টায় জামাতে ইমামতি করবেন আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

এই মাঠে যারা নিয়মিত ঈদের নামাজ পড়েন তাদের একজন জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে জঙ্গি হামলার ঘটনায় এখনও কিছুটা ভয় রয়ে গেছে। তবে আমরা এই মাঠেই নামাজ পড়তে চাই।’

স্থানীয় মুসল্লি আবদুল হক বলেন, ‘আমাদের শোলাকিয়ার যে সুনাম ছিল তা জঙ্গিরা কলুষিত করেছে। তাই এবারের ঈদের নামাজে যেন এ ধরনের কোন হামলা না হয়, সেই জন্য ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে জোড়ালো দাবি জানাচ্ছি।’

কিশোরগঞ্জে সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সেলিম কবীর বলেন, ‘গুলশান আর শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর সরকার বেশ ভালোভাবেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। আশা করি, এবারও প্রশাসন সফল হবে।’

তবে ভয় না পেয়ে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নির্ভয়ে নামাজ পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন শোলাকিয়া মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আজিমুদ্দিন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘কেবল সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীই নয়, মাঠ ও আশেপাশেও বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকে গোয়েন্দা মোতায়েন থাকবে।’

গত ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া মাঠের অদূরে আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলা হয়। জঙ্গিরা গ্রেনেড ছুঁড়ে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে পুলিশের কনস্টেবল আনসারুল ও জহিরুলকে হত্যা করে। পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলির এক পর্যায়ে নিজ ধরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান গৃহবধু ঝরনা রাণী ভৌমিক। পরে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হামলাকারীদের একজন আবির রহমান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক হন আরেক জঙ্গি শফিউল ইসলাম। পরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি ও তার এক সহযোগী নিহত হন।’



« (পূর্বের সংবাদ)