মেইন ম্যেনু

নিরাপত্তা বলয়ের নতুন ছকে গুলশান-বনানী

গুলশান-বনানীর কুটনৈতিক জোনসহ সারাদেশে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের ছক তৈরী করেছে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন শুরু হয়েছে তার বাস্তবায়ন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এবং সরেজমিনে ঘুরে গুলশান-বনানী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া নিরাপত্তার বিভিন্ন দিকগুলো জানা গেছে।

গুলশান জোনের পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গুলশান-বনানীতে আগেও কঠোর নিরাপত্তা ছিল। কিন্তু ১ জুলাই হলি আর্টিসানে হামলার পর থেকে আগের চেয়ে মনিটরিং ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাবলয়ের আধুনিক ছক তৈরি করেছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। যাতে করে কোনো অপরাধী অপরাধ করে পার না পায়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। কি বলয় তৈরি করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দৃশ্যমান কাজের মাধ্যমে তা দেখতে পাবেন।

তিনি আরও জানান, হামলার পর থেকে গুলশান-বনানীসহ কূটনৈতিক পাড়ার নিরাপত্তা ঢেলে সাজানো হয়েছে। দূতাবাসগুলোর সামনে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা কমিয়ে আনাসহ গুলশান এলাকায় প্রবেশের প্রতিটি পথে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি চেকপোস্টের দায়িত্বে একজন করে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা রয়েছেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করে সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন জনসাধারণের ওপর। প্রতিটি চেকপোস্টে অতিরিক্ত আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। যে কোনো ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। গুলশানে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সামনে অনগার্ডে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি মাঠে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।

গুলশান জোনের এসি রফিকুল ইসলাম বলেন, গুলশান-বনানীর নিরাপত্তা জোরদার করতে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি ৬৫০টি সিসি ক্যামেরার সাথে সম্প্রতি আরো ৫০০ সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

এদিকে, হলি আর্টিসানে হামলার ঘটনাস্থল ৭৯ নম্বর সড়কের পাশের সড়কগুলোতে এখনও যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দাতা ও সাহায্য সংস্থাসহ কূটনৈতিক ব্যক্তিদের গাড়িকেও তল্লাশির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। জনসাধারণকেও যেতে হচ্ছে পুলিশি তল্লাশির মধ্য দিয়ে।

অন্যদিকে, গুলশানের নিকেতন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রবেশ পথের প্রত্যেকটি গেইটে পুলিশের অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

গুলশান ডিপ্লোম্যাটিক জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দিন বলেন, বিদেশি নাগরিকদের আগেও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হতো। তবে এখন এ নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি বেড়েছে মনিটরিং। দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। যে কোনো ধরণের অপরাধ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, সারাদেশের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিশেষ করে গুলশান ডিপ্লোম্যাটিক জোনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

গত ১ জুলাই শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় গুলশান-২ এ হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা হামলা চালায়। তাদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ২০ জনকে খুন করে জঙ্গিরা। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালির, ৭ জন জাপানি ও ১ জন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশি।