মেইন ম্যেনু

নির্বাচনী প্রচার: আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ জাপা এমপি

আচরণবিধি ভঙ্গ করে পৌরসভা নির্বাচনে এলাকায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নোমানকে আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা। তবে নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগ অস্বীকার করে জাপা এমপি জানান, ব্যক্তিগত কাজে রামগতি যাওয়ার পথে মিথ্যা অভিযোগে ছাত্র ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে জেলার রামগতি পৌরসভার আলেকজান্ডারে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের জাতীয় পার্টির এমপি মোহাম্মদ নোমান ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে লক্ষ্মীপুর থেকে রামগতি যাচ্ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার গাড়িটি রামগতি পৌরসভার আলেকাজান্ডার বাজারে পৌঁছালে ছাত্র ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা গতিরোধ করে গাড়িটির চারদিক ঘিরে ফেলে। এ সময় তিনি (সাংসদ নোমান) ব্যক্তিগত কাজে রামগতি যাওয়ার কথা জানালেও ছাত্র ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা উস্কানিমূলক বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে লক্ষ্মীপুরের দিকে রওয়ানা হলে ছাত্র ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তার পিছু নেয়। পরে তিনি রামগতি থানায় ঢুকে ওসির কক্ষে আশ্রয় নেন। এ সময় ছাত্র ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা বাইরে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে বিকাল ৩টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গাড়ি নিয়ে তিনি লক্ষ্মীপুরে ফিরে যান।

সাংসদ মোহাম্মদ নোমান বলেন, ব্যক্তিগত কাজে (আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে) রামগতি যাওয়ার বিষয়টি তিনি আগেই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছেন। তারপরও মিথ্যা অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্র ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা যে কাজটি করেছেন তা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিন বাবর দাবি করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে দলীয় প্রার্থী আজাদ উদ্দিন চৌধুরীর (প্রতীক-লাঙ্গল) পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছিলেন। যে কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তাকে প্রচারণা চালাতে দেননি।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, প্রচারণা না চালালেও পৌর নির্বাচনী এলাকায় জাপা এমপি প্রবেশ করায় আ.লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য রামগতি পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এফএম শফী কামালের মুঠোফোনে একাধিকার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।