মেইন ম্যেনু

নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবীতে ইউএনও’র কার্যালয় ভাংচুর

বগুড়ার ধুনট উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কার্যালয় ভাংচুর, বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জা ও ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেল ৫টায় ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় ধাপে শনিবার ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের পারনাটাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আকতার পারভীন নামে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থীকে (মাইক) বিজয়ি ঘোষনা করেন প্রিজাইডিং অফিসার।

কিন্ত প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী ওই কেন্দ্রে ঝর্ণা খাতুন (বক) সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। প্রিজাইডিং অফিসারের এই ভুলের বিষয়টি নিয়ে রোববার সকালে উপজেলা পরিষদে আসেন ঝর্ণ খাতুনের কর্মী সমর্থকরা। দুপুরের দিকে এ বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় কর্মী সমর্থকরা। এসময় বিক্ষুদ্ধ কর্মী সমর্থকরা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তিনটি জানালা, হলরুমের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌছে বিক্ষুদ্ধ কর্মী সমর্থকদের ওপর লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।

পারনাটাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জুলফিকার আলী ফটিক বলেন, ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য প্রার্থী আকতার পারভিনের প্রাপ্ত ভোট ৩৬২ স্থলে ভুলক্রমে ৬৬২ লেখা হয়েছে। এই ভুলের কারনে ঝর্ণা খাতুনের পরিবর্তে আকতার পারভীন বিজয়ী হয়েছেন। তবে, আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের বিষয়টি ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত ভাবে অবগত করেছি।

এদিকে, ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুনর রশিদ ভোট গননায় একই প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে পক্ষপাত্বিতর অভিযোগে করেন। নির্বাচনী ফলাফল বাতিলের দাবীতে হারুনর রশিদের নেতৃত্বে তার কর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করার চেষ্টা করেন। মিছিলটি ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌছুলে পুলিশ বিক্ষুদ্ধ কর্মী সমর্থকদের বাধা দেয়। এসময় পুলিশের সাথে মিছিলকারীরা বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ওই মিছিলে লাঠিচার্জ ও ২ রাইন্ড শর্ট গানের গুলি ছোড়েন পুলিশ। এঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ৩০জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই উল্লেখযোগ্য।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা পরিবেশ ভাল। তবে, কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনায় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বিতর্কিত প্রিজাইডিং অফিসারকে আটক রাখা হয়েছে।