মেইন ম্যেনু

নির্বাচনে অনিয়মেই ইউএনডিপির প্রকল্প বাতিল!

নির্বাচন কমিশনের একটি প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি- ইউএনডিপি। প্রকল্পটির শেষ হওয়ার ৮ মাস আগেই দাতাদের তহবিল প্রত্যাহারের কারণে প্রকল্প থেকে সরে গেল সংস্থাটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার কারণেই সরে গেছে তারা।

‘বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পটিতে ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে তহবিল জোগাচ্ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। তারা তহবিল প্রত্যাহার করার কারণে জুলাই মাসের শেষে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানায় ইউএনডিপি।

এদিকে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে কমিশনে ইউএনডিপির একটি প্রতিনিধিদল এসেছিল। তারা সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে প্রকল্প বাতিলের বিষয়ে অবগত করে গেছেন।’

কী কারণে হঠাৎ করে প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএনডিপি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।’

তবে ইসি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে প্রভাবশালী দেশগুলো অসন্তুষ্ট। গত বছরের উপজেলা নির্বাচন এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‍তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকার কারণে দাতা দেশগুলো প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে সরে যেতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নতির কাজে জাতিসংঘ সাহায্য করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা প্রকল্প শক্তিশালীকরণ’ নামে একটি প্রকল্প ইউএনডিপির অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল। ২০১২ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত চলার কথা ছিল। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই প্রকল্পটি বাতিল করেছে ইউএনডিপি।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন সিটি নির্বাচনে অনিয়মের আভিযোগ তদন্ত না হওয়াকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন। যদিও কী কারনে প্রকল্পে তহবিল বাতিল করা হয়েছে এ বিষয়ে দাতারা স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি বলে ইউএনডিপির এক কর্মকর্তা জানান।

ইউএনডিপি সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় যেসব প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মকাণ্ড ছিল সেগুলো প্রকৃতপক্ষে শেষ হয়ে গেছে। আগামী মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও এরইমধ্যে প্রকল্পটির মূল কাজগুলো শেষ হয়ে গেছে।

ভোটার রেজিস্ট্রেশনে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নির্বাচনী ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং প্রশিক্ষণ ছিল এই প্রকল্পের কাজ।