মেইন ম্যেনু

নির্মলেন্দু গুণের স্বাধীনতা পদক: কিভাবে দেখছেন অন্য কবিরা?

সিফাত ওয়াহিদ:
অবশেষে কবি নির্মলেন্দু গুণকে স্বাধীনতা পদক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর ফলে পূর্বঘোষিত ১৪ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবছর এই পদক পাচ্ছেন এই কবি।
তবে এই পদক এমনিতেই আসেনি। পদক প্রাপ্তদের নাম ঘোষণার পর কবি নির্মলেন্দু গুণ ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে ‘আমাকে স্বাধীনতা পদক দেননি কেন? শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক হইচই শুরু হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন কবি। সে স্ট্যাটাস দেয়ার নয় দিনের মাথায় সরকার তাকে পদক দেয়ার ঘোষণা দেন। আর তাতেই শুরু হয় আরেক দফা হইচই।
কিন্তু পদকের জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস- কিভাবে দেখছেন অন্য কবিরা? সেটি জানতে আওয়ার নিউজ বিডি তিন কবির অভিমত প্রকাশ করলো।

অসীম সাহা
নির্মলেন্দু গুণের স্বাধীনতা পদক লাভে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুশি হয়েছি। এটা তার আরও আগেই পাওয়া উচিত ছিল। যারা পদক দেন, তারা যে গত ১৫ বছর ধরে এই পদক থেকে তাকে বঞ্চিত করেছেন এবং তাকে দাবি জানিয়ে শেষপর্যন্ত তা পেতে হয়েছে, সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তবে পদকপ্রাপ্তির দাবিতে অনড় থেকে গুণ যে তার দাবিকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে পেরেছেন, তাতে তাকে অভিনন্দন না জানিয়ে পারা যায় না।
পদকপ্রাপ্তির পর অনেকেই তার বিরূপ সমালোচনা করে চলেছেন। সমালোচনা গ্রহণযোগ্য, তবে সমালোচনা করতে গিয়ে গুণকে যেভাবে অশ্লীল ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে, তা কতোটা শোভন হচ্ছে, তা আক্রমণকারীদের ভেবে দেখতে হবে।
নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং এই জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে দুঃসময়ে যে দুঃসাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার জন্যে এই পুরস্কার তার প্রাপ্য ছিল।
এটা দীনভিখিরি হিসেবে তাকে প্রদান করা হয়নি। যারা গুণের এই প্রাপ্তিকে ভিক্ষার সঙ্গে তুলনা করছেন, তারা অন্তর্গত অপ্রাপ্তির কোনো বেদনা থেকে তা করছেন কিনা, সে-ব্যাপারে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এ-নিয়ে আমি কোনো বিতর্কে যাওয়ার পক্ষপাতি নই। শুধু দেরিতে হলেও সরকার বিশেষত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উদারতার পরিচয় দিয়ে নির্মলেন্দু গুণকে স্বাধীনতা পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার জন্যে তাঁকেও আমি অভিনন্দন জানাই।

মিনার মনসুর:
আমাদের পুরস্কারগুলো অনেক বেশি রাজনীতিকরণ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ এখন আর এটাকে গ্রহন করে না। বাংলা একাডেমী, একুশে পদক কিংবা স্বাধীনতা পদকের তালিকাটা এখন হাতে নিলে লজ্জা হয়।
গুরুত্বহীন অনেক মানুষকে এসব পুরস্কার দিয়ে পুরস্কারের মযাদা ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। মানুষ তাই এখন এসব পদকধারীদের সম্মানের চোখে দেখে না।
সাধনা্, নিষ্ঠা, যোগ্যতা এবং কাজের মাধ্যমেই তো পদক পাওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের দেশে পদক প্রদানের প্রক্রিয়াটাই অস্বচ্ছ এবং অপরাজনীতির অংশ হয়ে গেছে।
চারপাশে এখন ‘পুরস্কার দিলাম এবং পুরস্কার নিলাম’ এর মত একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে।

আবু হাসান শাহরিয়ার:
‘লোক পুরানের মতে, তানসেন সুর ধরলে আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামতো। তানসেন রাজসঙ্গীত সাধক ছিলেন। একালের রাজকবি নির্মলেন্দু গুণ কান্নাকাটি করে স্বাধীনতা পদক পাওয়াতে বৃষ্টি ঝরেছে। থুথুবৃষ্টি। (ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া)।