মেইন ম্যেনু

নির্মানের দুই বছরেও উদ্বোধন হয়নি বেরোবির কেন্দ্রীয় মসজিদ

এইচ.এম নুর আলম, বেরোবি প্রতিনিধি: নির্মান কাজ সম্পন্নের দুই বছর পেড়িয়ে গেলেও উদ্বোধন করা হয়নি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রায় ৯ মাস ধরে দুটি মাইক অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে মাইকে এখন পর্যন্ত কোনো ওয়াক্তেরই আজান হচ্ছেনা বলে জানা গেছে।

এছাড়াও অনানুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া জুমার নামাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ দুটি হলের শিক্ষার্থীরা। তবে মসজিদের আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করে ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগের মাধ্যমে যতদ্রুত সম্ভব মসজিদ উদ্বোধনের আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ২২ টি প্রকল্পের জন্য তত্বাবধায়ক সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ২০০৮ সালের ১৯ আগষ্ট ৯৯ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাশ হয়। যেখানে ৫০০ স্কয়ার মিটার

জায়গাবিশিষ্ট মসজিদ স্থাপনের জন্য তিন তলা ভবনের নিচ তলার জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা বাজেট নির্ধারন করা হয়। মসজিদটির নির্মান কাজ শেষ হওয়ার তারিখ ছিলো ২০১২-১৩ অর্থ বছরের ১৩ জুন। নির্মান কাজের কার্যাদেশ প্রদান করা হয় ২০১১ সালের ২৩ মার্চ। যার সময় বেঁধে দেওয়া হয় দুই বছর আড়াই মাস।

নির্মানকাজ শেষ হওয়ার প্রায় ৬ মাস পরও উদ্বোধন না হওয়ায় অনানুষ্ঠানিকভাবে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আর এম হাফিজুর রহমান সেলিমসহ বেশ কিছু ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। বর্তমান উপাচার্যের অনুমতিক্রমে ২০১৪ সালে মাহে রমজান মাসে খতমে তারাবীর মাধ্যমে অনানুষ্ঠিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই কেন্দ্রীয় মসজিদ। সেই সময় উপাচার্য জরুরী কাজে ঢাকা থেকে ফিরে এসে উদ্বোধন করার কথা ছিলো বলে জানা যায়। কিন্তু ঢাকা থেকে ফিরে এসে সেটি উদ্বোধন করেন নি উপাচার্য মহোদয়।

এর এক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতায় মসজিদে খতমে তারাবী বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুটি হল উদ্বোধন হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মসজিদে জুমার নামাজ পড়া আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের শেষের দিকে অনানুষ্ঠিকভাবে কিছু আগ্রহী মুসল্লিদের আপ্রাণ চেষ্টায় জুমার নামাজ পড়া শুরু হয়। দুই একটি জুমা পড়তে না পড়তেই ‘মসজিদ কমিটির অনুমতি নেওয়া হয়নি’ বলে বাহানা দিয়ে জুমার নামাজে কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটি মসজিদে তালা না খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয় বলে অভিযোগ আসে । পরে খোলা মাঠেই কয়েক জুমার নামাজ আদায় করে হলের শিক্ষার্থীরা। চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এখন পর্যন্ত জুমার নামাজের অনুমতি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত বছরের মে মাসে এক অতর্কিত ঝড়ে ভেঙে পড়ে মসজিদের মাইক স্ট্যান্ড। অকেজো হয়ে পড়ে দুটি মাইক যা আজো ভালো করা হয়নি। এমতাবস্থায় প্রায় ৯ মাস ধরে মসজিদের মাইকে কোনো আজান হচ্ছে না।

তবে কাজ শেষ হওয়ার দেড় বছর পর মসজিদ কমিটি গঠন করা হলেও ঠিকাদারের নিকট কী কারনে কাজ বুঝিয়ে নেওয়া হয়নি তা পরিস্কার নয়। অন্যদিকে নির্মান কাজ শেষ হওয়ার পরও ঠিকাদারের দায়িত্বে মসজিদ থাকায় তা সম্পূর্ণ করে উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. একে এম নূর-উন নবী ২০১৩ সালে মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের প্রায় দুই বছর পর গঠন করা হয় কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটি। ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল মাননীয় উপাচার্যকে সভাপতি ও সে সময়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোরশেদ উল আলম রনিকে সেক্রেটারি করে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় এক বছর পেড়িয়ে গেলেও মসজিদটি উদ্বোধন করতে পারেনি গঠিত এই কেন্দ্রীয় কমিটি।

মসজিদটির অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সমাধানের লক্ষ্যে গত বছরের শেষের দিকে ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ছাড়া হয়। কী কারনে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি তা এখনো জানা যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত এই দুটি পদে নিয়োগ বোর্ড বসেনি বলে জানা গেছে।

এদিকে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি ঠিকাদার মসজিদ কমিটির হাতে মসজিদের কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ঐ দিনই উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ল্যাব এটেনডেন্ট মোঃ মুহিবুল ইসলামকে অস্থায়ীভাবে মসজিদের কাজের জন্য চাবি বুঝিয়ে দেন। পূর্বে সপ্তাহের ৭ দিনই ঠিকাদারের লোক হিসেবে রাকিবুল ইসলাম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নামাজ পড়ালেও বর্তমানে দিনে ৩ ওয়াক্ত করে পাঁচদিন নামাজ চলে। বাকী দুই দিন মসজিদ বন্ধ থাকে বলে জানা গেছে।

এর আগে মসজিদের অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ সম্পূর্ন করতে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। যতদ্রুত সম্ভব অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শ্রীঘ্রই মসজিদটি সৌন্দর্যমন্ডিত করে ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ দিয়ে তা উদ্বোধন করা হবে বলে কমিটি সূত্রে জানা গেছে।