মেইন ম্যেনু

নিষেধাজ্ঞা স্থগিত : বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে কেলোর কীর্তি

কলকাতার কমেডি চলচ্চিত্র ‘কেলোর কীর্তি’। সাফটা চুক্তি অনুযায়ী ছবিটি বাংলাদেশে মুক্তি দিয়ে প্রদর্শনের চেষ্টা চলছিলো। কিন্তু চুক্তির নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়নি বলে এই চলচ্চিত্রের প্রদর্শন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে গত ১৮ জুলাই এসএফ ফিল্মসের প্রযোজক শরীফ হোসেন আদালতে রিট আবেদন করেন।

তারই প্রেক্ষিতে ১৯ জুলাই আদালত ছবিটির প্রদর্শনের উপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন। পাশাপাশি এ ছবি প্রদর্শন করা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন।

এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজ ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশে ‘কেলোর কীর্তি’র মুক্তি ও প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনে আর কোনো বাধা রইল না।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ আজ রোববার (২৪ জুলাই) এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল।

একরামুল হক টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ‘কেলোর কীর্তি’ ছবিটি বাংলাদেশে প্রদর্শনে আর কোনো বাধা নেই।’

কলকাতার পরিচালক রাজা চন্দ পরিচালিত ‘কেলোর কীর্তি’ সিনেমাটি গত ঈদুল ফিতরে ভারতে মুক্তি পায়। এ সিনেমায় অভিনয় করেন দেব, মিমি চক্রবর্তী, যীশু সেনগুপ্ত, অঙ্কুশ হাজরা, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নুসরাত জাহান, কৌশানী মুখোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ প্রমুখ। এটি তামিল ‘চার্লি চ্যাপলিন’ চলচ্চিত্রের অনুকরণে বানানো হয়েছে।

গত ১৯ জুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের প্রযোজক কার্তিক দে বাংলাদেশ থেকে ‘রাজা ৪২০’ ছবি ভারতে রফতানি করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘নো অবজেকশন’ সনদ গ্রহণ করেন। কিন্তু এ ছবি ভারতে প্রদর্শন করা হয়েছে এ ধরনের কোনো সনদ ভারত সরকার থেকে দেওয়া হয়নি। এর মাত্র তিনদিন পর ২২ জুন বাংলাদেশে ভারতীয় ছবি ‘কেলোর কীর্তি’ প্রদর্শনের জন্য আমদানি করা হয়। ২২ জুলাই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ‘কেলোর কীর্তি’ মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজের।

রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বাংলাদেশের ছবি আমদানি ও রফতানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নীতিমালা ২০১৫-২০১৮ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ভারতীয় ছবি আমদানি করতে হলে সমান সংখ্যক ছবি রফতানি হতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে ছবি রফতানি করার পর আমদানি করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে প্রথমে কোনো ছবি রফতানি হওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এটি প্রদর্শন হতে হবে। বাংলাদেশের ছবি প্রদর্শিত হয়েছে মর্মে ভারতের সেন্সর বোর্ড ও ফিল্ম বোর্ডের লিখিত সনদ পাওয়ার পর বাংলাদেশে ভারতীয় ছবি আমদানি ও প্রদর্শন করা যাবে। কিন্তু ‘কেলোর কীর্তি’ সিনেমাটির ক্ষেত্রে এ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। তাই ছবিটির সব রকম প্রদর্শন বন্ধের আবেদনে আদালতে রিট হয়।

শুধু তাই নয়, একপক্ষীয় ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানির ষড়যন্ত্র দাবি করে ‘কেলোর কীর্তি’ ছবিটি মুক্তি ও প্রদর্শন বন্ধ করার দাবিতে গেল ২০ জুলাই মানববন্ধন করে ঢাকাই ছবির সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। তার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতি, বাংলাদেশ শিল্পী সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎপাদন ব্যবস্থাপনা সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র নৃত্য পরিচালক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অ্যাকশন গ্রুপ ও সিডাবসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

সেখানে শিল্পী সমিতির সভাপতি শাকিব খান বলেন, ‘শিল্পী সমিতির সভাপতি শাকিব খান বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে কখনো ছবি বিনিময়ের পক্ষে ছিলাম না। এখনো নেই। ভবিষ্যতেও থাকবো না। ঈদের আগে আমরা তথ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। তারপরও হঠাৎ দেখলাম কলকাতায় মুক্তিপ্রাপ্ত একটি ছবি এখানে মুক্তির অনুমতি পেয়ে গেলো! এমন অসম বিনিময় আমরা মেনে নেবো না।’

সেদিন আরো হাজির ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার, চিত্রনায়ক ওমর সানি, অমিত হাসান, অভিনেত্রী অঞ্জনা, পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, সোহানুর রহমান সোহান, সাফিউদ্দিন সাফি, বুলবুল বিশ্বাস প্রমুখ।

নতুন করে ‘কেলোর কীর্তি’র মুক্তির বিপরীতে এইসব সংগঠন ও নেতা কর্মীরা কী মন্তব্য করেন সেটাই এখণ দেখার অপেক্ষায় সবাই।