মেইন ম্যেনু

নিহত বাংলাদেশিদের সংখ্যা নিয়ে সৌদি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি

সৌদি আরবের মিনায় হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের সময় পদদলনে নিহত বাংলাদেশি হাজিদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে সৌদি গণমাধ্যম। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২২ জন জানালেও সৌদি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার সৌদি গেজেট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এ সংখ্যা মাত্র এক।

গত বৃহস্পতিবার মিনায় হজের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের উদ্দেশে যাওয়ার সময় পদদলনে কয়েক শ হাজির মৃত্যু হয়। শুক্রবার জানানো হয়েছিল এ সংখ্যা ৭১৩। পরে তা বেড়ে ৭৬৯-এ দাঁড়ায়। শনিবার সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছিল। তবে রোববার ও সোমবার ভারত ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ হজে নিহত ১১০০ জনের ছবি কূটনীতিকদের কাছে পাঠিয়েছে। তবে ইরান দাবি করে আসছে, নিহতের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরানের ১৩১ হাজি নিহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরো তিন শতাধিক। তবে সৌদি গেজেট সোমবার জানিয়েছে, ইরানের হাজিদের মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৯-এ দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের হাজিদের নিহতের সংখ্যাও বেড়েছে।

mina

এদিকে বাংলাদেশি হাজিদের নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাব ও ধর্ম মন্ত্রণালয়। হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহার সোমবার বলেছিলেন, ‘১৮ জন মারা গেছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এর মধ্যে ১১ জনের তথ্য জেনেছি সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে। বাকিদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাচ্ছে না।’

 

তবে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি বলে সোমবার জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ধর্মসচিব চৌধুরী বাবুল হাসান জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ২২ জন বাংলাদেশি হাজি রয়েছেন।

সোমবার সৌদি সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট নিহত বাংলাদেশি হাজিদের সংখ্যা নিয়ে পুরো উল্টো চিত্র দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, পদদলনে মাত্র একজন বাংলাদেশি হাজি নিহত হয়েছেন। অথচ রোববার নিহত ৬৫০ জন হাজির যেসব ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল। মক্কায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বিবিসিকে এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছিলেন। যেখানে বাংলাদেশের মন্ত্রণালয় ও হজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে দাবি করছেন, সেখানে সৌদি সংবাদমাধ্যমের সে সংখ্যা কমিয়ে দেখানোয় রীতিমতো বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।