মেইন ম্যেনু

নীতা-আম্বানির প্রেমকাহিনী

আইপিএল দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মালকিন। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সহধর্মিণী। ধীরু ভাই আম্বানির পুত্রবধূ। নাম তার নীতা আম্বানি। মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে ছিলেন। নাচে ছিল বিশেষ দক্ষতা। মনের খুশিতে তাল তুলতেন সরু কটিদেশে। এই নাচ দিয়েই জয় করে নেন ধীরু ভাই আম্বানির মন। তারপরের ঘটনা যেন নাটককেও হার মানায়।

বছর কয়েক আগে এনডিটিভির সঙ্গে আলাপকালে নীতা নিজেই শোনান তার সেই নাটকীয় কাহিনী। লিখেছেন অমৃত মলঙ্গী।

গুজরাটের একান্নবর্তী এক পরিবার। নাচ আর গানে মেতে থাকেন সবাই। এমন এক পরিবারেই বেড়ে ওঠেন নীতা। তার মা-ও গুজরাটি নৃত্যশিল্পী। মায়ের কাছেই নাচের তালিম শুরু হয় আট বছরের নীতার। কয়েক বছরের ব্যবধানে মায়ের চোখ চড়কগাছ। ভরতনাট্যমে নীতার শরীরী ভাষা তাকে বিমোহিত করে। গুজরাটে কোনো অনুষ্ঠান হলেই ডাক পড়ে মেয়ের। কলেজের এমনই এক অনুষ্ঠানে নীতার নাচ দেখে মুগ্ধ হন মুকেশের বাবা ধীরু ভাই আম্বানি। কিছুতেই সেই মুগ্ধতা কাটছিল না তার। অনুষ্ঠান শেষ হলে আয়োজকদের কাছ থেকে নীতা সম্পর্কে বিস্তারিত খবর নেন। ঘরে ফেরার আগে ফোন নম্বরটাও লিখে নিয়ে যান।

পরদিন নীতাদের বাড়ির ফোন বেজেই যাচ্ছে।
‘হ্যালো…কে বলছেন?’ ফোন তুলে প্রশ্ন করেন নীতা।
‘আমি ধীরু ভাই আম্বানি,’ উত্তর আসে।

ভারতে ওই সময় ধীরু ভাই আম্বানি একটি পরিচিত নাম। তার অর্থ-প্রতিপত্তির কথা মুখে মুখে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে নামটি শুনে রেগে যান নীতা। মনে করেন কেউ হয়তো মজা করছে। দ্রুত লাইন কেটে দেন। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন বাজে।
‘হ্যালো…কে বলছেন?’ আবার প্রশ্ন নীতার।
ফের একই উত্তর, ‘আমি ধীরু ভাই আম্বানি।’

এবার মেজাজ বিগড়ে যায়। ধমকের সুরে নীতা বলেন, ‘তাহলে আমি এলিজাবেথ টেইলর!’ ঘর থেকে মেয়ের কথা শুনছিলেন নীতার বাবা। তিনি এগিয়ে এসে ফোন ধরেন। কথা বলে বুঝতে পারেন আসলেই ধীরু ভাই আম্বানির ফোন। কথা শেষ করে মেয়েকে বলেন, ‘তোমার ভদ্রভাবে কথা বলা উচিত ছিল।’

কয়েক দিন বাদে ধীরু ভাই আম্বানি নীতাকে তার অফিসে আমন্ত্রণ জানান। নীতাও হাজির হয়ে যান। আলাপকালে ধীরু ভাই তার লেখাপড়া, শখের কথা জানতে চান। সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে নেন রান্নাবান্না করতে পারেন কি না। ওই দিন নীতাকে তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান রিলায়েন্সের মালিক। এক ফাঁকে নীতাকে নিজের ইচ্ছার কথাও জানিয়ে দেন, ‘তোমাকে আমার পুত্রবধূ করতে চাই।’

নীতা বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে ধীরু ভাইয়ের বাড়িতে যান। প্রথম দিন দরজাটা খুলেছিলেন মুকেশই। দুজনের সেই প্রথম চোখে চোখ। আলাপ।

এরপর মুকেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ‘প্রেম’। কিন্তু সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। প্রথমে তিনি লেখাপড়া শেষ করতে চাইছিলেন। ওদিকে আবার বিয়ের জন্য তোড়জোড় শুরু করেন ধীরু ভাই। পরে মুকেশকে বুঝতে আরেকটু সময় চাইছিলেন নীতা।

নীতার সঙ্গে কোথাও দেখা করতে গেলে প্রায়ই মার্সিডিজ নিয়ে যেতেন মুকেশ। একদিন নীতা তাকে বলেন, ‘তোমাকে আমার মতো করে বাসে ঘুরতে হবে।’ ‘প্রেমিকা’র কথা ফেলতে পারেননি মুকেশ।

গুজরাটে নীতার প্রিয় একটা বাস ছিল। জুহু সৈকত ধরে চলাচল করত বাসটি। এর জানালায় চোখ রেখে দুজনে অনেকবার সৈকতে চোখ ভিজিয়েছেন। কতবার যে ধনীর দুলালকে সাধারণ একটি বাসের যাত্রী করেছেন নীতা, তার ইয়ত্তা নেই!

একদিন পোদ্দার রোড দিয়ে মাইক্রোতে লংড্রাইভে যাচ্ছেন মুকেশ আর নীতা। ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি থামলে মুকেশ কিছু একটা ভাবছিলেন। ওদিকে পোস্ট-লাইটে সবুজ আলো জ্বলে ওঠে। তবু স্থির মুকেশ। কেমন যেন আনমনা।

‘এই, গাড়ি চালাও,’ মুকেশকে ধাক্কা দেন নীতা।
‘আমাকে বিয়ে করবে?’ বজ্রপাতের মতো উত্তর আসে পাশ থেকে।
‘হ্যাঁ…করব…।’ তারপর আবার গাড়ি চলতে থাকে। ওই সমুদ্রসৈকত ধরে…।