মেইন ম্যেনু

নুরুলের বিজয়ের গল্প : ঢাবি খ ইউনিটে ২৩১ তম

আপনারা যারা ছবির এই ছেলেটিকে দেখছেন, সে এবারের ঢাবি খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার্থী ছিল। ছেলেটির নাম মুহাম্মদ নুরুল আমিন (খোকন)। চট্টগ্রামের একটি মফস্বল এলাকার ছেলে, আমাদের ‎বিজয় একাত্তর‬ হলে আমার রুমে গত দুদিন ধরে ছিল। আমার এক রুমমেটেরই এলাকার ছেলে। তাকে প্রথম দেখেই আমার মায়া এবং আগ্রহ জেগেছিল। সেই কৌতুহল থেকে তার জীবন কাহিনী শুনলাম, শুনে মনে হল যে সবাইকে জানানো উচিত। প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি এবং অধ্যাবসায় থাকলে মানুষ যে সবকিছুই পারে তার উৎকৃষ্ট উদাহরন এই ছেলেটি। ছেলেটি এবার ২০১৫-১৬ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় খ ইউনিটে ২৩১ তম হয়েছে।

গরীব ঘরের ছেলে কিন্তু মনটা তার পাথরের মত শক্ত। প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি এবং অধ্যাবসায় কেমন হতে পারে তার প্রকৃত উদাহরণ এই ছেলেটি। বাবা-মা অভাবের কারণে বেশিদূর পড়াশুনা করাতে পারে নি। তাইতো নিজে নিজেই পানের দোকানে থেকে পড়াশুনা করেছে। দোকানের মালিক, সে পড়াশুনা করতো তার জন্য মারতো। তাই সেখান থেকে পালিয়ে, পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শহরে ৫ বৎসর চাকরি করেছে। (হোটেল বয় হিসেবে) যার ফলে ক্লাস ফাইভ, সিক্স, সেভেন পড়তে পারে নি। পরবর্তীতে ক্লাস এইট পড়েছে চট্টগ্রামের অখ্যাত সরকারি বিদ্যালয়ে। তারপরে সেই বিদ্যালয়ে সাইন্স থেকে ৪.২৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেছে।

কিন্তু দারিদ্র্যতার কারণে কলেজে এসে বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে পারে নি। তাই মানবিক বিভাগ থেকে ৪.৮৩ পেয়ে পাশ করেছে। তাই আজ লিখছি তার জয়ী হওয়ার গল্প। ছেলেটি তার জীবনের গল্প বলতে বলতে কেঁদে ফেলেছে। আর তার চোখের সেই সরলতা-মায়া দেখে আমিও মনের অজান্তেই কেঁদে ফেলেছি।

আপনারা সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন যেন ওর মনের সুপ্ত ইচ্ছাটি পূর্ণ হয়। তবে আপনাদের বলি, ছেলেটির দিকে আপনাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন। আমি ছেলেটিকে এই অভয় দিয়েছি, “ঢাবির ছাত্ররা শুধু মেধার দিক থেকেই এগিয়ে নয়, মানবিকতার দিক থেকেও সবার চেয়ে এগিয়ে”।