মেইন ম্যেনু

নূর হোসেনকে ফেরাতে ১৫ দিন লাগতে পারে

নারায়ণগঞ্জ সাত খুন মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত নূর হোসেনকে দেশে ফেরাতে ১৫ দিন লাগতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। বিএসএফ তাকে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বিজিবির হাতে তুলে দেবে।

শুক্রবার নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়ার আদেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। অতি দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সন্দীপ চক্রবর্তী।

নিয়ম মেনে নূর হোসেনকে সরকার প্রত্যার্পণের বিষয়টি সরকারকে দুই মাসের মধ্যে জানাতে হবে। তবে পুলিশ আর কারাদপ্তরের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন বন্দী প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কেননা, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত বন্দিবিনিময় চুক্তি সাক্ষরিত হয়নি।

এই অবস্থায় কারা দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘আদালতের নির্দেশ আসার পরে রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে থাকা পররাষ্ট্র দপ্তর প্রত্যর্পণের একটা সমান্তরাল আদেশ দেবে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ যাবে কারাগারে এবং ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারের কাছেও। তারা বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে এসকর্ট করে সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে যাবে নূর হোসেনকে।’

বিএসএফের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, ‘তারা এখনও আদালতের নির্দেশ বা পুলিশের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাননি। নির্দেশ পেলেই বিজিবি’র সঙ্গে কথা বলবেন তারা।’

নিয়ম অনুযায়ী বিএসএফ নূর হোসেনকে নিয়ে সীমান্তের জিরো লাইন পর্যন্ত গিয়ে বিজিবির হাতে তুলে দেবে।

প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের একজন জানিয়েছেন, সাধারণত এই প্রক্রিয়া শেষ করতে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তবে এটা যেহেতু একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলা, তাই হয়তো খুব দ্রুতই শেষ করা হবে প্রক্রিয়াটি।’

তবে পশ্চিমবঙ্গে দূর্গাপুজা আর মহরম মিলিয়ে সামনেই লম্বা ছুটি, তার আগে এতগুলো দপ্তর নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে নূর হোসেনকে ফিরিয়ে দিতে পারবে নাকি আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ এবং পরে হত্যা করা হয়। শীতলক্ষ্যা নদীতে নিহতদের লাশ ভেসে উঠে এর ঠিক দু’দিন পরেই। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ওয়ার্ড কমিশনার নূর হোসেনকে দায়ী করা হয়।

ঘটনার পরপরই কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম র‍্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। এদের মধ্যে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন হলেন এই মামলার অন্যতম একজন আসামি। ঘটনার পর থেকেই তিনি ভারতে আত্মগোপন করেন।