মেইন ম্যেনু

নূর হোসেনের রিমান্ড চান নজরুলের স্ত্রী-শ্বশুর

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ও তাঁদের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেনও একই দাবি জানিয়েছেন।

ওই তিনজন মনে করছেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা কারা আছে, তা জানা যাবে।

বিউটি বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিমান্ডে নিয়ে তাঁর (নূর হোসেন) মুখ থেকে জানা হোক, আসল পরিকল্পনাকারী ও একা নাকি ওর সাথে কারা কারা সম্পৃক্ত আছে এবং অর্থের জোগানদাতা কে। আমরা চাই, রিমান্ডে নেওয়ার পরে আবার যাতে তদন্ত করে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়।’

শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদ করলে জাতি, পৃথিবী, মানুষ জানতে পারব যে ওর পেছনে কে কে আছে। নূর হোসেনের সাথে কে কে থাইকা এ হত্যা করছে।’

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা ইতোপূর্বে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমরা এই বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাব। উচ্চ আদালতে গিয়ে মামলাটি যাতে পুনরায় তদন্তে যায় এবং এই নূর হোসেন এ মামলার যেহেতু একটি ভাইটাল (গুরুত্বপূর্ণ) ব্যক্তি, প্রধান আসামি এবং সে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ জোগানদাতা, তাই তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত আবশ্যক। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এই মোকদ্দমায় আর কারা কারা তাঁর সাথে পরিকল্পনায় জড়িত ছিল এবং কারা কারা এই অর্থের জোগান দিয়েছে, এই বিষয়গুলো বের হয়ে আসত।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে নূর হোসেনকে ফেরত দিয়েছে ভারত। ভোরে ঢাকার উত্তরায় র‍্যাব-১-এর কার্যালয়ে আনা হয় তাঁকে। সেখান থেকে সকালে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনে নেওয়া হয় নূর হোসেনকে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকার, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ছয়জন ও পরের দিন আরো একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় কুমার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে এবং নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ফতুল্লা থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন।

ওই মামলায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সাবেক তিন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কমান্ডার এম এম রানা, মেজর আরিফসহ ১৮ র‍্যাব সদস্য এবং নূর হোসেনের সাত সহযোগী এখন কারাগারে আছেন। পলাতক আছেন আরো নয় আসামি।