মেইন ম্যেনু

নূর হোসেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. জাহাঙ্গীর কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে তিনি বলেন, ফোন করে তাকে জানানো হয়, নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এর কিছু সময় পর ঢাকায় পৌঁছায় নূর হোসেন।

নূর হোসেনকে বহনকারী পুলিশের গাড়ি শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়।

এর আগে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত নূর হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশন দেন।

শুক্রবার দুপুর আড়াইটার পর কড়া নিরাপত্তায় পুলিশ লাইনস থেকে তাকে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে তোলা হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যা মামলাসহ ২৩টি মামলার মধ্যে ১৩টিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এই ১৩ মামলায় তাকে আদালতে তোলা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভারত থেকে হস্তান্তরের পর, বেনাপোল সীমান্ত থেকে কঠোর নিরাপত্তায় নূর হোসেনকে শুক্রবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে ঢাকার উত্তরার র‌্যাব-১ কার্যালয়ে আনা হয়। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর সকাল সোয়া ৮টার দিকে নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনসে নিয়ে আসা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্টের জিরো পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা নূর হোসেনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে।

গত বছরের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকা থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। এর তিন দিন পর তাদের লাশ নারায়ণগঞ্জের উপকণ্ঠে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে উঠে। অপহরণের পরদিন অপহৃত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ফতুল্লা থানায় নূর হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার এজাহারে ‘র‌্যাবকে দিয়ে’ অপহরণের অভিযোগ করা হয়। তিন দিন পরে নদী থেকে লাশ উদ্ধার হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। পরে আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি হত্যা মামলা করেন।

কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম প্রথমে র‌্যাবের বিরুদ্ধে ‘ছয় কোটি টাকা নিয়ে’ অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ করেন। অর্থায়নকারী হিসেবে তিনি নূর হোসেনকে অভিযুক্ত করেন। পরে তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব-১১-এর কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা বের হয়ে আসে। র‌্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার এম এম রানাসহ অন্য সদস্যরা মিলে ওই সাতজনকে অপহরণের পরে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেন বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। প্রায় এক বছর তদন্তের পরে গত এপ্রিলে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এতে র‌্যাবের ওই তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

নূর হোসেন এ মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ১ নম্বর আসামি। অভিযুক্ত ৩৫ জনের মধ্যে বর্তমানে র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাসহ ২২ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ২২ জনই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পলাতকদের মধ্যে র‌্যাবের আট সদস্য রয়েছেন।

এদিকে, গত বছরের ২৭ এপ্রিল সাত খুনের পর পরই ভারতে পালিয়ে যান নূর হোসেন। ওই বছরের ১৪ জুন কলকাতার বাগুইআটিতে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানের মামলা হয়। গত মাসে ভারত সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে নিলে নূর হোসেনের দেশে ফেরার পথ সুগম হয়।



« (পূর্বের সংবাদ)