মেইন ম্যেনু

নৃশংসভাবে স্বামীকে খুন করেছেন যেসব স্ত্রী!

স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া, মন কষাকষি- এ তো খুবই সাধারণ ঘটনা। এসব কারণে ঠিক আর কতটুকুই বা করতে পারে মানুষ রাগের মাথায়? খুব বেশি হলে নাহয় বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদ। এইতো? কিন্তু এই স্বাভাবিক ব্যাপারগুলো অনেক সময় ঠিক এতটা স্বাভাবিকভাবে ঘটে না। সাধারণ হিসেব-নিকেশকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়ে মোড় নেয় আকস্মিকভাবে আর জন্ম দেয় ভয়াবহ কিছু ঘটনার। কতটা ভয়াবহ? এই ধরুন খুন করে মৃত স্বামীর শরীরের মাংস রান্না করে খাওয়া! বিশ্বাস হচ্ছেনা? তাহলে আসুন দেখে নিই পৃথিবীর ইতিহাসে আলোচিত এরকমই কিছু নিষ্ঠুর নারীকে।

১. মৃত স্বামীর মাংস দিয়ে রাতের খাবার

২০০২ সালের কথা। পুরো পৃথিবীকে চমকে দেয় অষ্ট্রেলিয়ার একটি ঘটনা। ঘটনার শুরুটা হয়েছিল খুব স্বাভাবিকভাবেই। বাইরে থেকে দেখতে মোটেই কোন অস্বাভাবিকতা ছিল না ক্যাথেরিন নাইটের ভেতরে। কিন্তু সেদিন হঠাত্ কি হল একটা বুচার চাকুর সাহায্যে মোট ৩৭ বার কোপান নিজের স্বামীকে এই নারী। আর ঘটনা কেবল সেখানেই শেষ নয়। পুলিশ এসে দেখতে পায় এর ভেতরেই স্বামীর মাথাকে সেদ্ধ করে আর মাংসকে ভেজে সব্জীসহ ছেলেমেয়েদের জন্যে রাতের খাবার পরিবেশন করে ফেলেছেন ক্যাথরিন ( কানাডিয়ান সিআরসি )! তবে সৌভাগ্যজনকভাবে তখনো অব্দি খাবারগুলো খাওয়া শুরু করেনি বাসার কেউ।

২. টাকার নেশায় ২১ জনকে খুন

মেরি অ্যান কটনের জীবন ঠিক আর দশটা গৃহকর্ত্রীর মতনই চলে যাচ্ছিল। হয়তো সেটাই সবসময় যেত যদিনা জীবনের বিনিময়ে টাকা পাওয়ার ব্যাপারটা জানতেন মেরি। কেউ একজন সেবার মেরিকে জানায় যে পরিবারের কোন এক সদস্য মারা গেলে তার জন্যে মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়া যায়। আর খবরটা শুনেই ঠিক করে ফেলেন এই সাদাসিধে বেশের ভয়ঙ্কর নারী যে পরিবার নয়, টাকাটাই আগে। আর্সেনিক বিষের মাধ্যমে পরিবারের মোট ২১ জন সদস্যকে মেরে ফেলেন তিনি। এর ভেতরে ছিল তার ১২ সন্তান, মা আর স্বামীও ( ডেইলি মেইল )।

৩. কালো মনের বিধবা

২০০০ সালে স্টেসির প্রথম স্বামী মাইকেল ওয়ালেস মারা যান। এক মেয়েকে নিয়ে আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এই নারী আর ডেভিড কাস্টারকে বিয়ে করে নিয়ে হয়ে যান স্টেসি কাস্টার। কিন্তু ২০০৯ সালে হঠাত্ সকলের সামনে বেরিয়ে পড়ে তার কালো রূপ যখন জানা যায় যে ডেভিডকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ মিশিয়ে মারতে চেয়েছিলেন তিনি। কেবল তাই নয়, একই উপায়ে মারতে চেয়েছিলেন স্টেসি নিজের মেয়েকেও ( ফার্স্ট টু নো )। ফলে পুলিশের সন্দেহ হয় যে নিজের আগের স্বামীকেও খুন করেছিলেন এই নারী। এবং শেষ অব্দি ঘটনার সত্যতাও বেরিয়ে আসে সবার সামনে।

৪. ফাঁসিতে ঝুলিয়ে স্বামীকে খুন

সেদিন ক্রিস্টাল বোডার নামক এক নারী পুলিশকে ফোন করে বলেন যে তার স্বামী ফাঁসিতে ঝুলে মারা গিয়েছে। পুলিশকে দেওয়া নিজের ভাষ্যমতে ক্রিস্টাল জানান তিনি ও তার স্বামী টনি যৌনমিলনের সময় খেলাচ্ছলেই ফাঁসিতে ঝোলার অভিনয় করেন আর সেসময়ই দূর্ঘটনাক্রমে মারা যায় টনি। কিন্তু পরবর্তীতে তদন্ত করে পাওয়া যায় যে, ক্রিস্টাল পরিকল্পিতভাবেই ১৫ মিনিট টানা টনিকে ঝুলিয়ে রাখেন। এরপর অজ্ঞান হয়ে গেলে স্বামীকে নীচে নামিয়ে একটি সিগারেট ধরান আর মৃত্যু নিশ্চিত করে তবেই পুলিশকে ফোন করেন ( ফার্স্ট টু নো )।

৫. অন্যরকম সিরিয়াল কিলার

৭৬ বছর বয়সী বেটি নিউমারের কোন স্বামীই ঠিক টিকতো না। কয়দিন পরপরই মারা পড়তো তারা। তবে এ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত ছিলেন না বেটি। বরং, স্বামীদের টাকা আর নিজের নাতির নামে করা জীবন বীমা ভাঙিয়ে বেশ বহাল তবিয়তেই জীবন পার করছিলেন তিনি। তবে একটা সময় সব সত্যি প্রকাশ পায় আর জানা যায় যে, বেটি নিউমরের কোন স্বামীই বেশিদিন না টেকার কারণ ছিল বেটি নিজেই। একের পর এক চার স্বামীকে হত্যা করেন এই নারী ( ফার্স্ট টু নো )। কে জানে, হয়তো নাতিকেও ঠিক একইভাবে ব্যবহার করেছিলেন মহিলা নিজের স্বার্থে!

পৃথিবীতে এমন অনেক ঘটনাই ঘটে যেগুলো প্রথম দেখায় অবিশ্বাস্য মনে হয়, মনে হয় মানুষ এতটা নিষ্ঠুরও হতে পারে! আর উপরের নিষ্ঠুর মানুষগুলোর কৃতকর্মের ঘটনাগুলোর ঠিক একই প্রশ্ন জাগিয়ে দেয় সবার মনে। সত্যিই, মানুষ কি না পারে!