মেইন ম্যেনু

নেচে-গেয়ে ব্যাঙের বিয়ে : অতিথি ৫ শতাধিক (দেখুন ছবিতে)

পাচঁ শতাধিক অতিথি’র আপ্যায়ন,নাচ-গান,মাইকের বাজনা আর ধুমধাম আয়োজনের মধ্যদিয়ে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ব্যাঙের বিয়ে। এ বিয়েকে ঘিরে যেমন ছিলো উৎসবের আমেজ তেমনি ছিলো বেদনার নীল। অনাবৃষ্টির কারণেই এই বিয়ের আয়োজন। একটু বৃষ্টি’র আশায় পৌরানিক গল্পে অবতীর্ন। কেউ কেউ বলছে,আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য।

এ ব্যতিক্রম ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন ছিলো বিরল উপজেলার বেতুরা পশ্চিমপাড়া গ্রামে। শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী চলে এ বিয়ের আয়োজন। বিয়ের উৎসবে গ্রাামের মানুষ। সবার বিশ্বাস, ব্যাঙের বিয়ে দিলেই অনাবৃষ্টি কেটে যাবে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হবে।

বিয়েকে গ্রামবাসীসহ ৫ শতাধিক আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। রং মেখে নেচে-গেয়ে আনন্দ-ফুর্তি’র মাধ্যমে ব্যাঙের বিয়ে দেয়া হয়।

গ্রমের প্রবীন ব্যক্তি বজেন্দ্র বর্মণ জানান, আজ (শনিবার) শ্রাবণ মাসের ২৪ দিন। কিন্তু বৃষ্টি নেই। জমিতে চাষ দেওয়া যাচ্ছে না। যে জমিগুলোতে চারা রোপণ করা হয়েছে, সে জমিগুলো পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এ কারণে যাতে বৃষ্টি আসে সে জন্য ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন। গ্রামের কিশোর ও যুবকরা এক সপ্তাহ ধরে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিচে-গেয়ে অর্থ, চাল, মরিচ, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, তেল সংগ্রহ করেন। এ সময় প্রতিটি বাড়িতে ব্যাঙের বিয়ের আমন্ত্রণ ও নিমন্ত্রণ জানানো হয় ।

বেতুরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাঁশতলায় সাজানো মাড়োয়ায় সকাল থেকে গ্রামবাসী আসতে শুরু করেন। বাজানো হয় মাইক। রং ও কাদা মেখে শুরু হয় নাচ-গান।

দুপুর সাড়ে ১২টার সময় বর ব্যাংকুর মা লাইলী ও কনে মেনকার মা ডালো রানী রায় বর-কনেকে নিয়ে হাজির হন মাড়োয়ায়। এ সময় পাশেই চলছিল রান্না-বান্নার কাজ। শুরু হয় নাচ-গান। গ্রামের মানুষ বর-কনেকে দেখে টাকাসহ বিভিন্ন প্রকার উপহার দিয়ে খিচুড়ি খেয়ে যান।

মাড়োয়ার আশপাশে চলে লাঙল দিয়ে জমি চাষ। শুকনার মধ্যে লাগানো হয় ধানের চারা। এ যেন এক অন্যরকম উৎসব। মুসলমান-হিন্দু সকল সম্প্রদায়ের সব বয়সের মানুষের মিলনমেলা। বিকেলে গরু’র গাড়িতে করে কনের বাসায় যাওয়া হবে কনেকে শ্বশুরবাড়িতে আনার জন্য।’

এ ব্যাপারে তেলিয়া বর্মণ (৮২) বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসী সবাই মিলে সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার জন্য ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করেছি। ভগবান অবশ্যই দেখছেন আমরা বৃষ্টির জন্য এ আয়োজন করেছি। অবশ্যই বৃষ্টি হবে।’

বিরল ভান্ডারা ইউপির ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহেশ চন্দ্র রায় জানান, গত সাত দিন ধরে এ আয়োজন চলছে। এলাকার যুবরা মূলত এই আয়োজন করেছে।

আদিবাসী নেতা কুদ্দুস সরকার জানায়, দিনাজপুরে এখন চলছে অনাবৃষ্টি। ক্ষেতে পানি না থাকায় কৃষকের মধ্যে শুরু হয়েছে হাহাকার। মানুষ বিকল্প ব্যবস্থায় আমন চারা রোপন করছে। জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে আমন চারা জ্বলে যেতে শুরু করেছে। এ কারণে এই ব্যাঙের বিয়ে। ব্যাঙের বিয়ে হলে বৃষ্টি হয়। এমন ধারণা অনেকের।

নিচে এক নজরে দেখে নিন বিয়ের কিছু উৎসব ছবিঃ

567 5 4 3 2