মেইন ম্যেনু

নেত্রী বিদেশে, বিএনপি নেতাদের ঈদ যেভাবে

প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চোখের চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে তিনি লন্ডনে গেছেন। নেত্রীর অনুপস্থিতিতে দলটির বেশিরভাগ নেতাই এবার ঈদ করছেন ঢাকায়।

প্রতিবছরই নেতাদের একটি বড় অংশ তাদের নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করতেন। কেউ কেউ ঈদের দিন সকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতেন। এবার বিএনপি চেয়ারপারসন দেশে না থাকায় দলের সার্বিক কার্যক্রম দেখভালের স্বার্থে ঢাকায় ঈদ করবেন দলটির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা। এদিকে এবারও কারাগারে ঈদ করবেন বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা।

১/১১ এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে দীর্ঘ আট বছর পরিবার ছাড়া ঈদ কাটিয়ে আসা খালেদা জিয়া এবার লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করছেন। দেশের বাইরে এটি হবে তার প্রথম ঈদ। ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার হওয়ার পর মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দীর্ঘদিন পর মায়ের সঙ্গে ঈদ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তারেক ৮ বছর ধরে লন্ডনেই ঈদ করছেন।

একমাসেরও বেশি সময় সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, তার নিজ জেলা ঠাঁকুরগাওয়ে ঈদ করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. আর এ গণি, মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, আ স ম হান্নান শাহ, সারোয়ারী রহমান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ঢাকায় ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তার নির্বাচনী এলাকা কেরানীগঞ্জে ঈদ করবেন। তবে স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতা তরিকুল ইসলাম তার নিজ এলাকা যশোরে ঈদ করবেন। বরাবরই তিনি যশোরেই ঈদ করেন। তবে হান্নান শাহ পরদিন গ্রামের বাড়ি যাবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান এম মোর্শেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন তাদের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। তবে অপর উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আবদুল আউয়াল মিন্টু লন্ডনে অবস্থান করায় তারা ঈদ করবেন সেখানে।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকায় ঈদ করবেন। আরেক ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী নিজ এলাকা পটুয়াখালী, বেগম সেলিমা রহমান ঢাকায় ঈদ করবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ঢাকায় ঈদ করবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বরিশালে এবং শামসুজ্জামান দুদু চুয়াডাঙ্গায় ঈদ করবেন বলে জানিয়েছেন।

ঢাকার প্রাক্তন মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা এ মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সপরিবারে তিনি সেখানেই এবারের ঈদ উদযাপন করবেন। দলের যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু ও মো. শাহজাহান নিজ এলাকা নোয়াখালীতে ঈদ করবেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আমেদ, রিয়াজ রহমান, আহমদ আযম খান, এম এ কাইয়ুম ঢাকায় ঈদ করবেন।

এদিকে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দ-াদেশ নিয়ে কারাগারে রয়েছেন। দুদকের মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এবারও কারাগারে কাটবে তাদের ঈদ। কারাগারে ঈদ করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া ভারতের শিলংয়ে ঈদ করবেন দলের আরেক যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ।

বরাবরই প্রতিবছর ঈদের দিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ঈদের দিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন (চীন মৈত্রী) কেন্দ্রে বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সর্বসাধারণের সঙ্গে ঈদের কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি নেত্রী। লন্ডনে অবস্থান করায় এবার শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি না করতে পারায় অনেকটাই ম্লান হবে নেতাকর্মীর ঈদ। তবে পরিবারের সঙ্গে খালেদা জিয়া ঈদ করতে পারায় তারা খুশি।

যেমনটি বলছিলেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) পরিবার ছাড়া আনেক দিন ঈদ করেছেন। অনেক বছর ধরেই তো নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে ঈদ উদ্যাপন করছেন তিনি। এবার পরিবার নিয়ে ঈদ করবেন, এতে আমরা অনেক খুশি। পরিবার নিয়ে ঈদ করার আনন্দ যে কী তা আমরা সবাই ভালো বুঝি। কারণ, আপনজনের সঙ্গে ঈদ করতে শত কষ্ট সহ্য করেও মানুষ তার নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে।’ তিনি নিজেও ঈদের পরদিন গ্রামের বাড়ি যাবেন বলে জানান হান্নান শাহ। রাইজিংবিডি