মেইন ম্যেনু

নেদারল্যান্ডস নির্বাচনে ইসলাম-বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে জয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী রুতে

নির্বাচনের আগে ইসলাম-বিদ্বেষী ও অভিবাসন-বিরোধীদের উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারণায় তীব্র চাপের মুখে থাকলেও নেদারল্যান্ডসের মধ্য-ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতের দল জয়ী হতে যাচ্ছে। আংশিক ভোট গণনার ভিত্তিতে এই খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বুধবার ডাচ নির্বাচনে ৮১ শতাংশ ভোটার নিজের রায় প্রদান করেছেন। যা গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট গ্রহণের ঘটনা। এবারের নির্বাচনের বিশেষ দিক ছিল বহু বছরের উদারনৈতিক রাজনৈতিক চর্চার বিপরীতে উগ্র জাতীয়তাবাদী, মুসলিম-বিদ্বেষী ও অভিবাসন-বিরোধীদের উত্থান। এর সঙ্গে ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকা না থাকার প্রশ্ন। উগ্র ডানপন্থী গ্রিট ওয়াইল্ডারের প্রচারণায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছিলেন রুতে।

তবে ৫৫ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যায়, ১৫০ আসনের পার্লামেন্টে রুতের ভিভিডি পার্টি ৩২টি আসনে জয়ের পথে রয়েছে। তবে ২০১২ সালে এই পার্টি জয়ী হয়েছিল ৪১টি আসনে। ওয়াইল্ডারের প্রচারণায় যতটা ধারণা করা হয়েছিল, জনগণ সেভাবে সাড়া দেননি। তার নেতৃত্বাধীন ফ্রিডম পার্টি, মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটস৬৬ এবং ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট পার্টি ১৯টি করে আসনে জয়ের পথে রয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএনপি জানিয়েছে।

জয়ের পথে থাকা রুতে সমর্থকদের বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে, তৃতীয়বারের মতো ভিভিডি নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে বড় পার্টি হিসেবে জয় পেতে যাচ্ছে। আজ রাতে আমরা কিছুটা উল্লাস করব।’ তিনি আরও বলেন, “ব্রেক্সিট ও মার্কিন নির্বাচনের পর নেদারল্যান্ডসেই ভুল জনপ্রিয়তাবাদী রাজনীতিকে ‘না’ বলে দেওয়া হয়েছে।” ইইউ নেতারাও রুতেকে টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচনে পরাজয়ের পথে থাকা ওয়াইল্ডার জানান, নির্বাচনে জয় না পেলেও তারা শক্তিশালী বিরোধী দল সরকারের সামনে দাঁড়াবেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রান্স ও জার্মানির আগামী নির্বাচনে নেদারল্যান্ডসের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে। ফ্রান্স ও জার্মানিতেও উগ্র ডানপন্থী, মুসলিম-বিদ্বেষী ও অভিবাসন-বিরোধীরা ক্ষমতাসীন সরকারকে চাপের মুখে রেখেছে।-রয়টার্স।