মেইন ম্যেনু

নেমে গেছে ‘রক্তের বন্যা’, রয়ে গেছে ঝুঁকি

ঈদের দিন বৃষ্টির পানিতে কোরবানির পশুর রক্ত মিশে ছড়িয়ে গিয়েছিল বিস্তীর্ণ এলাকায়। এই রক্তের বন্যায় ছড়িয়েছিল পরিবেশ দূষণের আতঙ্ক। তবে সে পানি নেমে গেছে।

রস্তার পানি নেমে গেলেও কোরবানির বর্জ্য বা দূষিত পানির একাংশ রাস্তার ভাঙা বা নিচু অংশে জমাট বেধে রয়েছে। পশুর রক্ত ও বর্জ্য পচন ধরে বাতাসে উটকো দুর্গন্ধ ছাড়াচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বর্জ্য সরিয়ে নিলেও রক্তমাখা পানি যত এলাকায় ছড়িয়েছে তার সবগুলোতে ব্লিচিং পাউডার না দেওয়ায় এই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

বুধবার সকালে রাজারবাগ, শান্তিনগর, কমলাপুর, মতিঝিল, আরামবাগ, বেইলী রোড ঘুরে দেখা যায়, পশুর রক্ত মিশেল পানি নেমে গেছে। তবে বর্জ্যের একাংশ রাস্তায় পানি নেমে যাওয়ার ধারে জমে আছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন রোদ উঠায় শুকিয়ে যাওয়া এসব বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আজকের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে কাল এসব বর্জ্য পঁচে দুর্গন্ধ আরও বাড়বে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যেসব পানি নেমে গেছে সেসব এলাকায় যদি মাটি বা অন্য কোথাও রক্তের কোনো অংশ লেগে থাকে তাহলে ওই এলাকায় জীবাণু ছড়াবে। এসব এলাকায় দ্রুত জীবাণুনাশক ছিটাতে হবে।’

বাড়ির সামনে যারা কোরবানি দিয়েছেন, সেসব এলাকা থেকে বর্জ্য সরিয়ে নেয়ার পরও জায়গাটি হারপিক বা ফিনাইল মিশ্রিত পানি দিয়ে ধুয়ে এই পানি নালায় ফেলে দেয়ার পরামর্শ দেন অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ।

korbane3_127914_0

বর্জ্য পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কতটুকু আগালো?

প্রতিবারের মতো ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিল রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। করপোরেশনের কর্মীরা মঙ্গলবার থেকেই কাজ করছেন। বুধবারও তাদেরকে বিভিন্ন এলাকার নালা থেকে বর্জ্য তুলে নিতে দেখা যায়। এসব এলাকায় ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে ব্লিচিং পাউডার।

তবে প্রথম দিনের কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন পশু কোরবানি তাদের এই কাজকে কঠিন করে দিয়েছে। ঈদের দিন বৃষ্টির কারণে অনেকেই সেদিন কোরবানি না দিয়ে বুধবার সকালে জবাই করেছেন। একই এলাকায় দ্বিতীয় দফা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে দেখা যায়নি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের।

ঈদের দিন বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত এলাকায় পশু কোরবানি দিনে অনীহার কথা জানিয়েছেন মুসল্লিদের অনেকেই। দ্বিতীয় দিন বৃষ্টি না থাকলেও নির্ধারিত এলাকায় না গিয়ে বাড়ির সামনে পশু জবাই করতে দেখা গেছে।

রাজধানীর এলিফেন্ট রোড, পরিবাগ, ইস্কাটন, বেইলী রোড, কলাবাগান এলাকায় বেশ কয়েকজনকে পশু কোরবানি করতে দেখা গেছে সড়কের ধারে। এদের একজন জাহাঙ্গীর হোসেন। বৃষ্টির কারণে প্রথম দিন কোরবানি করেননি তিনি। নির্ধারিত এলাকায় না গিয়ে মূল সড়কে কেন কোরবানি দিচ্ছেন জানতে চাইলে মৃদু হাসেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তর কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুর পর্যন্ত আবর্জনা সরানোর কাজ চলবে। ফলে আজ ও আগামীকাল যেসব পশু কোরবানি হয়েছে সেগুলোর বর্জ্যও সরানো হবে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘নগরীর এই অংশে রক্তমাখা পানি ছড়ায়নি। ফলে তাদের কাজ তুলনামূলক সহজ ছিল।’ তিনি জানান, বুধবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার টন পশুর বর্জ্য সরিয়েছেন উত্তরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

সহকর্মী আশিক আহমেদ সকাল থেকে ঘুরেছেন নগরীর গোড়ান ও বাসাবো এলাকায়। বাসাবো মাঠের সামনে ডাস্টবিন থেকে পশুর বর্জ্য তুলতে দেখা গেলো সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের। এদের একজন রহিমা বেগম। তিনি কোদাল দিয়ে ময়লা গাড়িতে তুলছিলেন।

রহিমা বেগম বলেন, ‘কাইল সারা রাইতই ময়লা তুলছি।’ সকাল আটটায় এই দলটি কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার পর যোগ দেয় আরও একটি দল।

গোড়ান ছাপড়া মসজিদর গলির ভেতরে স্থানীয় বাসিন্দা মুনসুর আলী বলেন, ‘আমাদের গলিতে তেমন ময়লা নেই।’

বাসাবো পাটোয়ারি গলি, মাদারটেক আবদুল আজিজ স্কুলের মাঠ, মাদারটেক উত্তর পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পশুর বর্জ্য সরিয়ে নিয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

মাদারটেকের বাসিন্দা জসিমউদ্দিন বলেন, ‘কাল যে রক্তমাখা পানি ছিল সেটা নেমে গেছে। এরপর ভোর থেকে সিটি করপোরেশনের লোকজন কাজে লাগে। এখন পর্যন্ত তেমন দুর্গন্ধ ছড়ায়নি। কাল বোঝা যাবে।’