মেইন ম্যেনু

নোট বাতিল ইস্যুতে মোদির ইস্তফা চাইলেন মমতা

দিল্লিতে দাঁড়িয়ে মোদির ইস্তফা দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীকে পাশে বসিয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রবল বিরোধিতা করে মমতা বলেন, ‘নোট বাতিল হল স্বাধীনতার পর সবচে’ বড় দুর্নীতি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকের ওপর থেকে মানুষের ভরসা উঠে যাচ্ছে’।

তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ ‘ক্যাশেলেসের নামে কেন্দ্রীয় সরকার বেসলেস হয়ে গিয়েছে, পুরো ফেসলেস হয়ে গিয়েছে। তারা যা পারছে তাই করছে, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় নষ্ট করেদিচ্ছে’। এটা শুধুমাত্র এমারজেন্সি নয়, এটা সুপার এমারজেন্সি। এই সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থরক্ষার জন্য করা হয়নি। এটা একটা ভয়-ডরহীন সরকার। তারা কোন কিছুই পরোয়া করছে না। মমতা প্রশ্ন তোলেন সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ৫০ দিন সময় চেয়েছিলেন। ৫০ দিন হতে আর মাত্র ৩ দিন বাকী। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আপনি কি সব দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন? আপনি (মোদি) যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে গত ৪৭ দিনে দেশ বিশ বছর পিছিয়ে গেছে। সব উন্নয়ন স্তব্ধ গেছে’।

জনবিরোধী এই নীতির প্রতিবাদ করলেই তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন আজ সোনিয়া, কাল মমতা তো পরের দিন মায়াবতীকে ভয় দেখানো হচ্ছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আগে নিজেদের মধ্যে ঘরোয়া আলোচনা সেরে নেয় কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আরজেডি, ডিএমকে সহ হাতে গোনা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। যদিও এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিল না সিপিআইএম, এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী উপস্থিত থাকতে পারেন বলে শোনা গেলেও শারীরিক কারণ দেখিয়ে এদিনের যৌথ সভায় উপস্থিত থাকেন তিনি।

এর আগে সংবাদ সম্মেলন থেকে রাহুল গান্ধী বলেন,‘দুর্নীতি ও কালো রুপির কথা বলে কেন্দ্রীয় সরকার যে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা পুরোপুরি ব্যর্থ। এতে দুর্নীতি রোধ কিংবা কালো রুপি উদ্ধারে কোন কাজ দেয়নি। উল্টে নোট বাতিলে দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় ধাক্কা লেগেছে। চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ। তাদের কাছে কোন রুপি নেই। রাহুলের প্রশ্ন, মোদি বলেছিলেন যে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্যা সমধান হবে কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। এর দায় কার? মোদিজিকেই তার জবাব দিতে হবে’।

এদিকে বিরোধীরা যখন দিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করছেন ঠিক তার আগে দেরাদুনের সভা থেকে বিরোধীদের তোপ দেগে মোদি বলেন ২০১৪ সালে দেশের মানুষের ভোটে আমি ক্ষমতায় এসেছি, কিন্তু সেটা ফিতা কাটতে নয় কিংবা প্রদীপ জ্বালিয়ে উদ্বোধন করতে নয়। তারা (মানুষ) চেয়েছেন আমি কিছু করে দেখাই, তাই দেশ থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ, কালো রুপি উদ্ধারে আমি কাজ শুরু করেছি’।

উল্লেখ্য, গত ৮ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৫০০, ১০০০ রুপির নোট বাতিলের ঘোষনার পর থেকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। সমস্যা সমাধানের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী ৫০ দিন সময় চেয়ে নিলেও আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সেই সমস্যা মেটার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বাজারে পুরোনো ১০০ রুপির নোট কিংবা নতুন ৫০০ রুপির নোটের পর্যাপ্ত যোগান না থাকায় ভোগান্তি পোয়াতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ব্যাংক ও এটিএম’এর লাইনে দাঁড়িয়েও নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ হাতে পাচ্ছেন তারা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন এই সমস্যা মিটতে আরও কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।