মেইন ম্যেনু

নোয়াখালীতে রিক্সা চালকের স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা : আদালতে মামলা

সুবর্ণচর চরজব্বর থানাধীন ৮নং মোহাম্মদপুর ইউ.পি ৯ নং ওয়ার্ডের আল ফরিদের মৎস্য প্রজেক্টের পশ্চিম পাড়ে মানিকের বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় মাননীয় বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, নোয়াখালীতে একটি নাঃ শিঃ নিঃ মামলা করেন। আদালতের মামলায় জানা যায় চরজব্বর থানাধীন চর উরিয়া সাকিনস্থ মোঃ আবদুর রহিম রিক্সা চালকের বিবাহিত স্ত্রী বিউটি বেগমকে একই এলাকার মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে সেলিম প্রঃ বাঁশি আলা সেলিম (৩৫) তার বন্ধু একই এলাকার আবদুল মোতালেবের ছেলে মানিক (৩০) শনিবার সন্ধ্যার পর অনুমান ৯ ঘটিকার সময় জোরপূর্বক বাদীনির ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষনের চেষ্টা করে। বাদীনি আদালতকে জানান তিনি একজন সহজ, সরল, নিরীহ শান্তিপ্রিয় আইন কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, পর্দানশীল ও মুসলিম মহিলা হয়। আর আসামীগণ চরিত্রহীন, লম্পট, নারী নির্যাতনকারী, নারী ধর্ষনকারী, নারী ধর্ষনের চেষ্টাকারী ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক হয়। আদালতকে আরো জানান তার স্বামী পেশায় একজন রিক্সা চালক হয়। জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রামে রিক্সা কর্ম করে। বাদীনি তাহার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়া স্বামীর বসত বাড়ীর বসত ঘরে বসবাস করে। স্বামী বাড়ীতে না থাকার সুযোগে আসামীগণ বিভিন্ন সময় বিউটি বেগমকে উদ্দেশ্য করিয়া খারাপ অঙ্গ ভঙ্গি করে এবং বিনা প্রয়োজনে তাহার ঘরে আশেপাশে ঘুরাফিরা করে বাদীনি বিউটি বেগম আসামীগণের সহিত শারীরিক ভাবে মেলামেশা করার জন্য কু-প্রস্তাব দিয়া থাকে। আসামী সেলিম প্রঃ বাঁশি আলা সেলিম এরূপ কর্মকান্ড সম্পর্কে চর উরিয়া এলাকার ও স্থানীয় সোলেমান বাজারে কিছু ব্যবসায়ী গন্যমান্য লোকজনকে অবগত করে। ঘটনার তারিখ ও সময় বাদীনি বিউটি বেগমের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঘরে লেখাপড়া করিতেছিল। সেলিনা বেগম তাহার ২ মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে চৌকির উপর শোয়াইয়া দুধ পান করাইতে থাকে। এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে ঘরে ঠান্ডা বাতাস আসার জন্য ঘরের দরজা খোলা ছিল। আসামীগণ তৎসুযোগে সেলিনা বেগমের বসত ঘরে ঢুকিয়া চৌকির উপর তাকে শোয়া অবস্থায় পাইয়া আসামী বাঁশি আলা ছেলে বিউটি বেগমকে ঝাপটাইয়া ধরিয়া তাহার মুখের উভয় পাশে চুমু দিতে থাকে এবং তাঁহার স্তনে হাত দেয়। বিউটি বেগম হারিকেনের আলো বাড়াইয়া দেখতে পায় বাঁশি আলা সেলিম ও তার সঙ্গীয় বন্ধু মানিককে চিনিতে পারিয়া বিউটি বেগম বলেন আমার বসত ঘরে এত রাতে আসিয়াছেন কেন? জিজ্ঞাসা করিলে আসামীগণ একখানা ধারালো ছুরি বাহির করিয়া বলে কোন রকম শোর চিৎকার করিবে না। ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়া চুপ থাকতে বলে। আসামী মানিক বিউটি বেগমের পরনের শাড়ী জোরপূর্বক খুলিয়া ফেলে। বাঁশি আলা সেলিম বিউটি বেগমের বুকের উপর উঠিয়া তাহার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়া খামছাইয়া, কামড়িয়ে তাঁহার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে। বিউটি বেগম তাহার ইজ্জত রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করিয়া শোর চিৎকার করিলে ঘরে থাকা ছোট ছোট ছেলে- মেয়েরা চিৎকার করে আশেপাশের লোকজন আসিয়া বিউটি বেগমকে বিবস্ত্র অবস্থায়ও আসামীগণের সহিত দস্তাদস্তি করিতে দেখে। উপস্থিত লোকজন আগমন দেখিয়া আসামীগণ দৌঁড়াইয়া পালাইয়া যায়। আসামীগণের সহিত দস্তাদস্তির ফলে বিউটি বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম প্রাপ্ত হয়। বিউটি বেগমকে আসামীদের কবল হইতে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আনিলে ডাক্তার তাহার শারীরিক জখম পরীক্ষা করে একখানা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। উল্লেখ্য এই আসামীগণের বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চরজব্বর থানায় বরাবরে অভিযোগ দায়ের করিলে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা চরজব্বর থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করিয়া ফেরত দেয় সম্পূর্ণ ন্যায় বিচার প্রত্যাশায় বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে হাজির হইয়া আসামীগণের বিরুদ্ধে নালিশী মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলটি আমলে নিয়া চর জব্বর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ দেন।