মেইন ম্যেনু

‘ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না খালেদা’

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারের কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রওনা দিয়ে বেলা পৌনে ১১টায় এই বিশেষ আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলার কার্যক্রম স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুততার সঙ্গে করা হচ্ছে দাবি করে মাহবুব হোসেন বলেন, “আমরা আশ্বর্য হয়ে যাই, কোনো কোনো বিচারাধীন মামলার কার্যক্রম এক থেকে দেড় মাস পর তারিখ দেওয়া হচ্ছে। আর খালেদা জিয়ার মামলার তারিখ দুদিন, তিনদিন, সাতদিন পরপর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঘন ঘন তারিখ দেওয়ার জন্য দুদক আবেদন করছে। আদালতও সেই অনুযায়ী তারিখ ফেলছে। দুদুকের আরও মামলা বিচারাধীন আছে। ওই মামলায় যেভাবে সময় দেওয়া হয়, এখানে তা বৈষম্য (ডিসক্রিমিট) করা হয়।

মাহবুব হোসেন বলেন, ‘অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে যেভাবে তারিখ নির্ধারণ করা হয়, খালেদা জিয়ার মামলার ক্ষেত্রে সেটি হচ্ছে না। তিনি ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। এখানে ব্যক্তির বিচার হচ্ছে, অপরাধের কোনো বিচার হচ্ছে না।

অন্য সাধারণ মামলার মতো স্বাভাবিক নিয়মে এই মামলার তারিখ পড়ুক এই দাবি জানান তিনি।

মাহবুব উদ্দিন জানান, জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলায় তিনজন সাক্ষীর জেরা হয়েছে এবং একজন সাক্ষীর জবানবন্দি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘জবানবন্দি নেওয়ার সময়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সাক্ষী দেখে দেখে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কোনো আদালতে এ রকম চলতে পারে না। বারাবার প্রতিবাদ করা সত্ত্বেও বিচারক সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করছিলেন। ১/১১-তে দুদক যেভাবে ক্যাঙ্গারু কোর্টের আচরণ করেছে, সেভাবে খালেদা জিয়ার মামলায়ও একই আচরণ করতে চায়।

খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা বিচার চাই, তবে তা হওয়া উচিত আইন অনুযায়ী। ক্যাঙ্গারি কোর্টের মতো হলে, বিচারে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ডিভিশনে আপিলের ফাইল করতে সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার আদালতে পুবালী বাংকের বৈদেশিক শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার সাক্ষী এইচ এম ইসমাইল ও জনতা ব্যাংক সাত মসজিদ শাখার জিএম শেখ মকবুলসহ তিনজনকে জেরা করছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক খানসহ অন্য আইনজীবীরা।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার প্রাক্তন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার প্রাক্তন মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি করে দুদক।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া এ মামলার অপর আসামিরা হলেন, মাগুরার প্রাক্তন সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাক্তন সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান।