মেইন ম্যেনু

পচা গম খাইয়ে সরকার জনগণকে মারতে চায়

ব্রাজিল থেকে আমদানি করা পচা গম খাইয়ে সরকার জনগণকে মারতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ওই গম গো খাদ্য। কিন্তু সরকার এগুলো মানুষকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ২০ দলের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আয়োজিত ইফতারে অংশ নিয়ে খালেদা জিয়া এ মন্তব্য করেন।

ইফতারপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, “দেশে অত্যাচার, জুলুম, গুম, খুন চলছে। রমজানে আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবো যাতে এ অবস্থা থেকে তিনি আমাদের দেশকে রক্ষা করেন। দেশের মানুষ সবাই অস্থির। তাই জনগণকে বলবো শুধু আমাদের দিকে তাকিয়ে নয়, সরকারের বিরুদ্ধে আপনাদেরও যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।”

সম্প্রতি গণমাধ্যমে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ বাড়ছে এমন খবরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, “দেশে লুটপাট চলছে। বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে। সুইস ব্যাংকে টাকা বাড়ছে। এসব কাদের টাকা। বাংলাদেশের জনগণের টাকা। আর যারা ক্ষমতায় আছে তাদেরই বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু তারা এটা ভোগ করতে পারবে না।”

বাংলাদেশের মানুষ কষ্টে আছে এমন দাবি করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ এখন ফ্রি হ্যান্ড পেয়েছে। মনে হচ্ছে তারাই রাষ্ট্র চালাচ্ছে। যার কারণে সরকার তাদের কথা শুনতে বাধ্য হচ্ছে। পুলিশ এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। তারা কোনো কিছুই মানে না। দেশ এখন পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।”

২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, “মামলার কারণে নেতকর্মীরা লুকিয়ে আছে। বলা হয় এরা বাসে পেট্রলবোমা মেরেছে। কিন্তু পুলিশ স্বীকার করেছে আন্দোলনের হাত থেকে সরকারের পরে যাওয়া রক্ষা করতে তারা নিজেরাই এসব কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে।”

বিচার বিভাগ স্বাধীন নয় এমন দাবি করে তিনি বলেন, “বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে এই পুলিশকে গ্রেপ্তার করে বিচার আওতায় আনা হতো। কিন্তু প্রধান বিচারপতি বলছেন, তারা এখন নিয়ন্ত্রিত। নিম্ন আদালতকে সরকারের কথা মতো চলতে হয়।”

সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “রমজানে আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন দুর্নীতিবাজ, বেইমানদের এমন শাস্তি দেন যার পরিণতি হবে করুণ ও ভয়াবহ। তাই সবার কাছে আহ্বান থাকবে দেশ রক্ষায় সবাই এগিয়ে আসুন।”

এনপিপির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এতে বিএনপি ও ২০ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।