মেইন ম্যেনু

পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর ৭ উপায়

ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার চাপ থাকাটা স্বাভাবিক৷ কিন্তু নানা কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। মস্তিষ্ককে সজাগ রাখার কিছু সহজ উপায় আছে, যা মেনে চললে উপকৃত হবে ছাত্রছাত্রীরা। ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে সেসব বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মনোযোগ বাড়াবেন যেভাবে

যখন নিজেকে ক্লান্ত মনে হবে বা যথেষ্ট মনোযোগ নেই পড়াশোনায়, তখন কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়লে তা মনে রাখা সহজ হয়৷ টেক্সাসের একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ৩০০ ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে করা এক সমীক্ষার ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে৷ যারা দাঁড়িয়ে পড়াশোনা করেছিল, তাদের মনোযোগ ছিল অনেক বেশি– যারা বসে পড়াশোনা করেছিল তাদের তুলনায়৷ তাছাড়া বন্ধুদের সাথে পড়াশোনা বা আলোচনা করলেও বেশি মনে থাকে অনেকের৷

দায়িত্ববোধ

ছোটবেলা থেকেই যারা অস্থির প্রকৃতির হয়, পড়াশোনা বা অন্য কিছুতেও তেমন আগ্রহ নেই বা মন বসাতে পারে না– তাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছুটা ভিন্ন ব্যবস্থা নিতে হবে৷ অর্থাৎ শিশু বা ছাত্রছাত্রীকে কোনো পোষা প্রাণী কিনে দেয়া যেতে পারে৷ ছোট ভাই-বোনের খানিকটা দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে, যাতে করে ওরা কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে উঠতে পারে, আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে৷ কারণ আত্মবিশ্বাসই পড়াশোনায় মনোযোগ এনে দেবে৷

ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভিটামিন ফুড

পড়ুয়াদের যে যথেষ্ট ভিটামিন দরকার সে কথা আর কে না জানে? তবে শুধু জানা নয় তা কার্যে পরিণত করতে হবে৷ তাই ছাত্রছাত্রীদের চাই যথেষ্ট ভিটামিন, মিনারেল এবং পানীয়– অর্থাৎ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার৷ প্রধান খাবারের ফাঁকে ফাঁকে আপেল খাওয়া যেতে পারে, যাতে মিনারেল, আয়রন এবং প্রচুর ভিটামিন রয়েছে৷ জার্মানরা প্রচুর আপেল খায়, মনোযোগ ঠিক রাখতে জার্মানির কোনো কোনো স্কুলের টিফিনে আপেল খেতে দেয়া হয়৷

ব্রেনের খাবার

বিভিন্ন বাদাম– বিশেষ করে আখরোট, সামুদ্রিক মাছ, শাক-সবজি, ফল, গ্রিন-টিসহ বিভিন্ন চা৷ যা শরীর এবং মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী৷ পড়াশোনার মাঝে পাকা টমেটো বা টমেটোর জুসও খাওয়া যেতে পারে৷ কারণ মাত্র ১০০ গ্রাম টমেটোতে আছে ২৫ গ্রাম ভিটামিন ‘সি’ এবং পটাশিয়াম৷ কাজেই পান করতে পারেন ছাত্র-ছাত্রীরা টমেটোর জুস বা অন্য কোন ফল বা সবজির রসও৷

ফাস্টফুড!

ফাস্টফুডে ব্যবহার করা হয় নানা রকম রাসায়নিক উপাদান, যা অনেকের ক্ষেত্রেই অ্যালার্জির কারণ হয়ে থাকে এবং যা মনোযোগ এবং শরীরে তার প্রভাব ফেলে৷ জার্মানির খাদ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়ুর্গেন শ্লুইটারের মতে, দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি যে, ভুক্তভোগী অনেকেই সে কথা জানতে বা বুঝতে পারে না৷ আজকের তরুণদের প্রিয় খাবার ফাস্টফুড এবং মিষ্টি পানীয় হলেও শরীর ও মস্তিষ্কের কথা মনে রেখে সে সব থেকে কিছুটা সাবধান হওয়া উচিত৷

ব্রেনের বিশ্রাম

আজকাল দেখা যায়, অনেকে পড়ার ফাঁকে একটু বিশ্রামের জন্য ফেসবুকে ঢোকেন বা গেম খেলেন, যাতে আসলে মোটেই বিশ্রাম হয় না৷ তার চেয়ে বরং কর্মক্ষমতা বাড়ায় সেরকম ছোট এক টুকরো ডার্ক চকলেট মুখে দিয়ে পছন্দের গান শুনতে পারেন৷ অথবা বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারেন৷ সোজা কথা মনোযোগটাকে কিছুক্ষণের জন্য অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়া৷ এতে করে মাথাটা খালি তো হবেই এবং পড়াশোনায়ও মনোযোগ ফিরে আসবে৷

খেলাধুলা বা ব্যায়াম

গবেষকরা মনে করেন, শারীরিক পরিশ্রম অর্থাৎ খেলাধুলা বা ব্যায়াম যে কোনো মানুষকে যেকোনো চাপ থেকে সহজে মুক্তি দিতে সাহায্য করে৷ ব্যায়াম বা খেলাধুলা করার ফলে শরীরে হরমোনের প্রকাশ ঘটে কিছুটা অন্যভাবে৷ আর স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়ে মনোযোগেও৷