মেইন ম্যেনু

পথশিশু ‘মনন’ থেকে গাঁজা বিক্রেতা ‘বুলেট’ হলো যেভাবে…

ছোটবেলায় নাম ছিলো মনন ইসলাম। দিন যতোই পেরিয়েছে, জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে ধাক্কা খেয়ে অসৎ সঙ্গে মনন হয়ে ওঠে গাঁজা বিক্রেতা বুলেট।

রাজশাহীর তেরোখাদিয়া এলাকায় জন্ম বুলেটের। তার ছোটবেলায় বাবা কাশেম আলী মারা যান। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করা ছোট্ট মনন ইসলাম ঢাকায় আসে। এরপর কখনো বিমানবন্দর রেলস্টেশন, কখনো বা বিমানবন্দর এলাকার ফুটপাতে কেটেছে। খাবার হিসেবে মিলেছে অন্যদের উচ্ছিষ্ট।

এক সময় স্থানীয় গাঁজা ব্যবসায়ীদের নজরে আসে মনন। নাম পাল্টে হয়ে যায় বুলেট। ছোট্ট পথশিশু মনন হারিয়ে যায় বুলেট নামের মাঝে।

স্থানীয় গাঁজা ব্যবসায়ীরা প্রথমে ছোট সিগারেটের স্টিকে গাঁজা ভরে তা বিক্রি করতে দিতো বুলেটকে। ধীরে ধীরে এ অসৎ পথে দক্ষ হয়ে ওঠে বুলেট। এক পর্যায়ে স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌছে দেওয়া শুরু করে গাঁজা।

গাঁজা বিক্রি করে বুলেটের দিনে আয় হয় এক হাজার টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা।

কিন্তু এসব গাঁজা কোথায় পায় জানতে চাইলে বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফকে বুলেট জানায়, এর মূল হোতা বাদশাহ।

বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ঝোপ-ঝাড়ের মাঝেই গাঁজাসহ সচরাচর অবস্থান নিতো বুলেট। বিমানবন্দরের হকাররা সাধারণত বুলেটের কাছ থেকে গাঁজার পুড়িয়া কিনে আনতো। যা তারা খুচরা ২০ টাকা করে বিক্রি করতো। কিন্তু সম্প্রতি বিমানবন্দর এলাকাকে ভিক্ষুক ও হকারমুক্ত করায় জনসাধারণের মাঝে নিজেই গাঁজা বিক্রি করতে বের হয়ে আসে বুলেট।

রোববার (২০ মার্চ) সকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটক করে বুলেটকে। বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ বুলেটকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আমরা রোববার সকালে আধাগেজি গাঁজাসহ বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকা থেকে আটক করি বুলেটকে। জিজ্ঞাসাবাদের এক সময় বুলেট জানায় যে, হিলি সীমান্ত বন্দর থেকে কোনো এক বাদশা ভাই এসে তাদের কাছে গাঁজা দিয়ে যায়। প্রতি কেজি গাঁজা আট হাজার টাকা করে কিনে নেয় বুলেটরা। আমরা এখন বাদশাহের সন্ধান করছি। আশা করছি, অতি শিগগিরই বাদশাহকেও আটক করতে পারবো।

বিমানবন্দর থানা সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর এলাকার গাঁজা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় পথশিশুদের গাঁজা বিক্রির সঙ্গে জড়িত করে। কারণ, অল্প টাকায় পথশিশুদের দিয়ে কাজ করানো যায়। তাছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এসব শিশুদের সন্দেহ কম করেন। আর এসব পথশিশু এক সময় নিজেরাই গাঁজা ব্যবসা শুরু করে।

নানা সময় গাঁজা বিক্রির হোতাদের গ্রেফতার করা হলেও শক্তিশালী হাতের ইশারায় তারা মুক্ত হয়ে যান বলেও জানিয়েছে বিমানবন্দর সূত্র।