মেইন ম্যেনু

চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকা লুট

পদ্মা সেতুর নির্মাণ ঘিরে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান

ফজলুল কবির ও মোহাম্মদ শামীম একে অন্যের ভায়রা। বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণবাড়ী গ্রামে। ফজলুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী আর শামীম কাঁচামালের ব্যবসায়ী। আর্থিক সচ্ছলতা আনার জন্য বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন ফজলুল কবির ও শামীম। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে যাওয়ার আর্থিক সামর্থ্য ও সুযোগ কোনোটিই পাননি তারা। এরই মধ্যে দেশে বসেই বিদেশী টাকা আয়ের প্রস্তাব আসে ফজলুল ও শামীমের কাছে। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল নির্মাণকাজে বিদেশী কোম্পানির হয়ে অধিক বেতনে নিয়োগ পাওয়ার প্রস্তাব আসে তাদের কাছে। এ প্রস্তাবের ফাঁদে পড়ে এক পর্যায়ে ফতুর হন তারা। পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি কোম্পানি চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির সঙ্গে মিল রেখে চায়না মেজর ব্রিজ সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই প্রতারণা করেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ সব তথ্য।

শুধু ফজলুল কবির বা শামীম নয়, পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল নির্মাণকাজে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে কয়েকশ’ মানুষের কাছে থেকে কোটি টাকা লুট করে নিয়েছে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানটি।

ফজলুল কবির জানান, একই জেলার পাশের থানা গোপালপুরের নয়ন (ডাকনাম) পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাঙ্গাইল থেকে লোক সংগ্রহ শুরু করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নয়ন প্রচারণা শুরু করেন। রাজধানীর বনানীতে চায়না মেজর ব্রিজ সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড নামের এক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক, রাজমিস্ত্রী, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, সিকিউরিটি গার্ড, ড্রাইভার, বাবুর্চি, ক্লিনার থেকে শুরু করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার পদেও চাকরি দেওয়া হচ্ছে- এমন প্রচারণা চালান নয়ন। লোকমুখে শুনে নয়নের সঙ্গে পরিচয় হয় ফজলুল কবির ও শামীমের। চুক্তি হয় পদ্মা সেতুর কাজে তাদের শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি কোম্পানি চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির নামের সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীর বনানীর সি ব্লকের ৫ নম্বর রোডের ৫৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এই চায়না মেজর ব্রিজ সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় গড়ে তোলা হয়। ‘বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানটি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর (অব.) মো. এইচ আর বারী। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকেই তার স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রের মাধ্যমেই বিভিন্নজনকে নানা পদে চাকরি দেওয়া হয় (বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ)।

ফজলুল কবির ও শামীমকে নিয়ে নয়ন বানানীর প্রধান কার্যালয়ের ম্যানেজার শফিউল আলমের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এর পর শফিউলের সঙ্গেই ফজলুল ও শামীমের চাকরির পদ, বেতন, শর্ত ও নিয়মাবলী নিয়ে কথা হয়। শফিউল জানান, ফজলুল ও শামীমকে পদ্মা সেতুর মূল কাজ শুরু হলে লেবার (শ্রমিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। তখন মাসিক বেতন দেওয়া হবে ৩০ হাজার টাকা। তবে পদ্মা সেতুর মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির কাছে তাদের হস্তান্তর না করা পর্যন্ত দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানের (চায়না মেজর ব্রিজ সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড) অধীনে মুন্সীগঞ্জের মাওয়াতে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হবে। সঙ্গে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হবে। অবশ্য মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ফজলুল ও শামীমকে ফেব্রুয়ারি মাসের ২১-২২ তারিখের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

এর পর শুরু হয় ফজলুল কবির ও শামীমের সঙ্গে চাকরি দেওয়ার জামানত নিয়ে দরকষাকষি। তাদের দু’জনের নিয়োগের জন্য জামানত বাবদ এক লাখ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এত টাকা ফজলুল কবির ও শামীমের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন তারা। পরে দু’জনে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা দেন শফিউলকে। তবে এক্ষেত্রে কোনো প্রমাণপত্র বা রশিদও দেওয়া হয়নি তাদের। টাকা পরিশোধের পর পরই ফজলুল ও শামীমকে দেওয়া হয় নিয়োগপত্র।

ফজলুলের নিয়োগপত্র থেকে দেখা যায়, সাদা কাগজের অফিসিয়াল প্যাডে বাংলায় লেখা— ‘জনাব, আপনার দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সাল হতে শ্রমিক পদের জন্য ৫ বছরের সেতুর নির্মাণকাজে নিয়োগ করা হইল। ১২ ঘণ্টা কাজে আপনার মাসিক বেতন ৩০,০০০ টাকা প্রদান করা হইবে। বাৎসরিক দুই ঈদে মূল বেতনের ৫০% (শতাংশ) বোনাস প্রদান করা হইবে। এককালীন বীমা হইতে ৪৫ হাজার টাকা ৫ (পাঁচ) বছর পর প্রদান করা হইবে। পোশাকাদি বাসস্থান ও চিকিৎসা প্রদান করা হইবে। কর্তব্যকালীন সময়ে দুর্ঘটনায় পতিত হইলে এককালীন ১,৫০,০০০০ (এক লাখ পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং দুর্ঘটনায় মারা গেলে এককালীন ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা প্রদান করা হইবে। বাৎসরিক ছুটি ৩৫ দিন। প্রকাশ থাকে যে, অত্র প্রতিষ্ঠানে বিধি মোতাবেক সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

প্রতিটি নিয়োগপত্রে কিছু শূন্যস্থান রাখা হয়েছে, যেখানে চাকরিপ্রার্থীর নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, বেতন ও পদের নাম হাতে লিখে দেওয়া হয়। নিয়োগপত্রের নিচে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর (অব.) এইচ আর বারীর সিলমোহরসহ স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে। অফিসিয়াল প্যাডে তৈরি এই নিয়োগপত্রে উপরের অংশে দুটি লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। ইংরেজি অক্ষরে লেখা হয়েছে— China Major Bridge Security Services (pvt) Ltd. Head office : House# 55, Road# 6, Block# C, (1st Floor) Banani, Dhaka-1213. Cell : 01731879597, 01741268928. Training Center & Academy Gazipur.

নিয়োগপত্রটিতে কোনো টিএ্যান্ডটি (বিটিসিএল) নম্বর বা ফ্যাক্স নম্বর দেওয়া নেই। এমনকি কোনো ওয়েবসাইট ও ই-মেইল ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি নিয়োগপত্র দিয়ে পরদিন ফজলুল ও শামীমকে নিয়ে যাওয়া হয় মুন্সীগঞ্জের মাওয়াতে। সেখানে টিনের চালা ও বেড়া দেওয়া লম্বা দুটি ব্যারাক তৈরি করেছে ঢাকার এই প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে একটি রুমে স্থান পান ফজলুল ও শামীম। ১০ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট চওড়া একটি রুমে ১২ জনকে থাকতে দেওয়া হয়। তিনবেলা তাদের খাবার জুটতো আলুভর্তা, ভাত আর ডাল। মূল কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করার আগ পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা করে যে বেতন দেওয়ার কথা, মাস শেষে তারও কোনো খবর নেই। মাঝেমধ্যে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নতুন নতুন লোক এনে রেখে যান এই দুই ব্যারাকে। আর পুরাতনকে (শ্রমিক) প্রতিশ্রুতি দেন আজ/কালের মধ্যেই মূল কোম্পানিতে নিয়োগ হয়ে যাবে। প্রথমে শফিউল (ম্যানেজার) সবাইকে জানান ২২ ফেব্রুয়ারি মূল কোম্পানিতে তাদের নিয়োগ হয়ে যাবে। এর পর বললেন ১৫ মার্চ এবং সর্বশেষ ২০ মার্চের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাওয়ার পর আর মাওয়ামুখী হননি শফিউল।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে দুটি ব্যারাক বানিয়ে সেখানে শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করে ঢাকার এই ‘ভুয়া’ প্রতিষ্ঠানটি।

ফজলুলের কাছ থেকে ফোনে বিষয়গুলো জানার পর ৭ জুন মাওয়ার সেই ব্যারাক দুটিতে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ শ্রমিকই এখন যে যার মতো পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও নদীশাসনের কাজে বালু ভরাট করছেন। এ কাজ অবশ্য নদীশাসনের সাব-কন্ট্রাক্ট পাওয়া ঠিকাদাররা করতে দিচ্ছেন দিনমজুরির ভিত্তিতে। এর সঙ্গে তাদের মূল চাকরির সম্পর্ক নেই।

ফজলুল কবির বলেন, ‘ভাই পদ্মা সেতুর কাজে নিয়োগ পাব তাই ঋণ করে আমি ও আমার ভায়রা মোট ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি শফিউলকে। তারা কথা দিয়েছিল কাজে লাগানোর আগ পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা করে আমাদের বেতন দেবে। কিন্তু প্রথম দুই মাস শফিউল যাও এখানে আসত, এখন আর সে আসেও না। তার ফোনও বন্ধ। এখন উপায় না পেয়ে আমরা যে যার মতো কাজে লেগে পড়েছি। আর ধৈর্য ধরে আছি যদি মূল কোম্পানিতে কাজ পাই।’

ব্যারাকে আলাপ হয় মাদারীপুরের সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। পেশায় তিনি ড্রাইভার। এক লাখ টাকা বেতনের প্রস্তাবে শফিউলকে দেড় লাখ টাকা জামানত দিয়ে নিয়োগপত্র পেয়েছেন তিনি।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মাদারীপুর-খুলনা রুটে বাস চালাতাম। আমাদের গ্রাম থেকে অনেকে পদ্মা সেতুতে কাজ পেয়েছে খবর পেয়ে আমিও বনানী অফিসে যোগাযোগ করি। সেখানে শফিউলকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে নিয়োগপত্র পাই। কিন্তু এখনো কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। আমাকে কোম্পানির লরি ড্রাইভার হিসেবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে বেতন এক লাখ টাকা। এখন সবার মতো আমিও এই ব্যারাকে আছি। তিনবেলা আলুভর্তা ও ডাল দিয়ে ভাত খাই। ভাবছি আর কয়েক দিন দেখব তার পর চলে যাব।’

সিরাজুল জানান, তিনি ও ফজলুল যে ব্যারাকে থাকেন প্রথমে এই ব্যারাকে রাখা হয়েছিল মোট ৯৬ জনকে। এখন অনেকেই চলে গেছেন। আর সামনের আরেকটি ব্যারাকে জানুয়ারি মাসে তারা ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে থাকতে দেখেছেন। তাদের অনেকেই চাকরি পাওয়ার আশায় ঢাকার এই প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা (ইঞ্জিনিয়ার পদে) পর্যন্ত জামানত দিয়েছেন।

এদিকে নিয়োগপত্রে দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী গত ৮ জুন বনানীর ওই অফিসে। ভবনটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে চাকরিপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ঢুকতে চাইলে তারা জানান, অফিস তো বন্ধ। বেশ কয়েক দিন ধরে অফিস খোলা হচ্ছে না। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ‘কে বা কারা কার মাধ্যমে এই ভবনে অফিস ভাড়া নিয়েছে’ তা জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। নিজের নাম না বলে মধ্যবয়সী এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘ভাই বর্তমানে এখানে অনেকেই আসেন পাওনা টাকার জন্য। কিন্তু প্রথম কয়েকদিন অফিস খোলা ছিল। এখন অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।’

সর্বশেষ শুক্রবার রাতে (২৬ জুন) ফজলুল কবিরের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, চাকরি হবে না এটা বুঝতে পেরে হতাশ হয়ে তিনি ও শামীম মাওয়ার ব্যারাক ছেড়ে এখন টাঙ্গাইলে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ‘ভাই খবর পেয়েছি শফিউলকে র‌্যাবে ধরেছে। সে নাকি জামিনও পেয়েছে। এখন কোথায় আছে জানি না। তার ফোন নম্বর বন্ধ। তিন-চার দিন আগে আমরা (শামীমসহ) টাঙ্গাইলে চলে এসেছি।’

যে নয়নের মাধ্যমে ফজলুলকে নিয়োগ দেওয়া হল তার সম্পর্কে জানতে চাইলে ফজলুল বলেন, ‘নয়নের সঙ্গে আমার আর কোনো কথা হয়নি। সে কোথায় আছে জানি না। তবে শুনেছি গা-ঢাকা দিয়েছে।’

পরে ফজলুলের মাধ্যমে নয়নের ব্যবহৃত ০১৮৬৪৬৬৫৭৫৬ নম্বরে ফোন দেওয়া হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফজলুলের মাধ্যমে পাওয়া নয়নের ভাই নজরুলের ০১৭৭৮২৩৬১১৫ নম্বরে ফোন দিয়ে নয়নকে চাওয়া হয়। চাকরিপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নজরুলের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘নয়ন তো এখানে থাকে না। আর ও কাউকে চাকরি দেয়নি। নয়নও চাকরির আশায় দেড় লাখ টাকা দিয়েছে। সেটাও মাইর গেছে।’ এই কথা বলে নজরুল ফোনটির লাইন কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন।

এ ব্যাপারে পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল সেতুর কাজসহ অন্যান্য যে সব কাজ করা হচ্ছে সেগুলোর জন্য আলাদা আলাদা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কনসালট্যান্সি (পরামর্শক) প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এখন তারা তাদের কাজের জন্য কীভাবে জনবল নিয়োগ করবে সে বিষয় সরকার দেখবে না। আর এ ধরনের প্রকল্পে সরকারিভাবে কোনো শ্রমিক বা জনবল নিয়োগ করা হয় না। কোনো প্রতিষ্ঠানকে জনবল নিয়োগের জন্য সরকার অনুমোদনও দেয় না। সুতরাং আপনি যে কোম্পানিটির (চায়না মেজর ব্রিজ সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড) কথা বলছেন সেটার নাম শুনলেই বোঝা যায় তারা প্রতারণার জন্য মূল ঠিকাদার কোম্পানির নামের সঙ্গে মিল রেখেছে, যাতে মানুষকে সহজে প্রতারণা করতে পারে।’

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘প্রকল্প পরিচালক হিসেবে আমার এখানে কিছুই করার নেই। কারণ আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিকাদার কোম্পানিগুলোর। এ ধরনের অভিযোগ আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। তবে ব্যবস্থা যা নেওয়ার তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই নিতে হবে।’ সূত্র : দ্য রিপোর্ট



« (পূর্বের সংবাদ)