মেইন ম্যেনু

পবা উপজেলার বাগধানি ঐতিহাসিক শাহী মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব সম্পদে যাচ্ছে

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী থেকে : অনেক দেরিতে হলেও রাজশাহী পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকার বাগধানি তিন গম্বুজ মসজিদটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের নজরে এসেছে। বাগধানি কাচারীপাড়ার এই ঐতিহাসিক জামে মসজিদটি সংরক্ষণে বিবেচিত হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদটি প্রতœতত্ত্ব সম্পদে স্থান পেয়েছে।

মসজিদটি সংরক্ষণের জন্য ১২ জুলাই প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপ-সচিব গাজী মো: ওয়ালি-উল-হক স্বাক্ষরিত চিঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসেছে। প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন দপ্তরে মসজিদটির সার্বিক অবস্থা ও ভুমি তফসিল পাঠাতে বলা হয়েছে। পবা উপজেলার ক্রোড় পত্রে এই মসজিদটির পরিচয় প্রকাশিত হওয়ায় এবং বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম হোসেনের উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক জামে মসজিদটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরে অর্ন্তভূক্ত হয়েছে।

এই মসজিদটি নিমর্তি হয় প্রায় ২শ’ বছর আগে। অতিপ্রাচীন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদটি সংস্কারের অভাবে নষ্ট হতে বসেছিল। সংস্কার না করায় এরই মধ্যে মসজিদটির অনেক কিছুই কালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমান উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম হোসেনের উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সংরক্ষণ হচ্ছে। উদ্যোগটি না নিলে রাজশাহী থেকে আরো একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হারিয়ে যেত। এখনও মসজিদটির যা কিছু আছে তাকে ঘিরেই পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রুপ নিবে।

মসজিদ ভবনটির দৈর্ঘ্য ৮০ ফুট এবং প্রস্থে ৪০ ফুট। ক্ষেত্রফল ৩ হাজার ২শ’ বর্গফুট। মসজিটটির সদর দরজায় শিলা লিপিতে ফার্সি হরফে লিখা আছে ১২শ’ সালে মুন্সি এনায়েতুল্লাহ এ মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। মসজিদটির মেহেরাব ৩টি, দরজা ৩টি, ২টি জানালা ও একটি মিনার রয়েছে। মসজিদটির চার কোনায় নকশা খচিত গম্বুজ আকৃতির মনোরম পিলার রয়েছে। যা যে কোন পর্যটককে আকর্ষণ করবে। এছাড়াও মসজিদের চারপাশের দেয়ালে ভিতরে ও বাইরে চিনামাটির মনোরম খচিত নকসা রয়েছে।

১৯৯০ সালে ভূ-কম্পে মসজিদটির ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মসজিদের পাশে অবস্থিত কাচারি ঘরের ধ্বংসাবশেষ এখনো কালের সাক্ষী। মসজিদের চারপাশ রয়েছে বিস্তর ফাঁকা জায়গা (এখন অনেকের দখলে)। যখন নদী পথই ছিল একমাত্র পথ। তখন এই মসজিদকে ঘিরেই এখানে বারানই নদী ঘাট ছিল। সেই সূত্র ধরেই এখানে গড়ে উঠে সপ্তাহে দুইদিন হাট। ওই এলাকার একমাত্র প্রাচীন হাট এটাই। মসজিদটি গড়ে উঠার পর থেকেই দুর-দুরান্ত থেকে লোকজন এখানে মানত-সদকা করে থাকেন এবং নামাজ আদায় করেন।

রাজশাহী জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কি.মি উত্তরে নওহাটা পৌরসভার বাগধানি কাচারীপাড়ায় মসজিদটি অবস্থিত। যার একপাশ দিয়ে তানোর-রাজশাহী পাকা রাস্তা এবং অপরপাশ পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বারনই নদী। যার ওপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে সংযোগ ব্রিজ। মসজিদ সংলগ্ন এলাকা সবুজায়নের শ্যামল প্রান্তর।

রাজশাহী রেলগেট থেকে তানোর রোডে মাত্র ১৫ টাকা ভাড়ায় যাওয়া যায়। এছাড়াও রাজশাহী-নওগাঁ রাস্তায় নওহাটা ডিগ্রী কলেজ মোড়ে নেমে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা এবং নছিমন-করিমনও বাগধানি মসজিদে যাওয়া যায়।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম হোসেন বলেন, প্রাচীন এই মসজিদকে রক্ষা এবং ইতিহাসে এই মসজিদের স্বরুপ তুলে ধরা আমাদের সবারই কর্তব্য। সেই কর্তব্য থেকেই আমি এগিয়েছি। মসজিদটির ভাল কিছু হচ্ছে জেনে ভাল লাগছে।