মেইন ম্যেনু

পরকীয়ার জেরে স্বামীকে খুন, মা-ছেলে পুতিয়ে ফেলে লাশ

পরকীয়ার জেরে শ্বাসরোধ করে স্বামীকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে ফাতেমাবেগম হ্যাপী নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ কাজে সহযোগিতা করেছে তাদেরই সন্তান।

এ ঘটনায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম হ্যাপী ও ছেলে ফাহিমকে আটক করেছে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নির্মম এই ঘটনাটি ঘটে জেলার শাহরাস্তি উপজেলার মেহের উত্তর ইউনিয়নের নয়নপুর বেপারী বাড়িতে।

ঘটনার ১৬ দিন পর শনিবার রাতে স্ত্রীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ির পার্শ্ববর্তী জমিতে মাটির নিচ থেকে গলিত লাশ উত্তোলন করে পুলিশ। এ ঘটনায় ঐ নারী ও তার ছেলে ফাহিম (১৪ )কে আটক করেছে পুলিশ।

জানা যায়, ওই বাড়ির মৃত আঃ হাকিমের পুত্র মোঃ জামাল হোসেন (৪০) গত ১৪ এপ্রিল নিখোঁজ হয়েছে মর্মে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম হ্যাপি (৩৫) গত ২৮ এপ্রিল শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে পুলিশের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।

অপরদিকে ফাতেমা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তার এক নিকটাত্মীয় আমির হোসেনের শরণাপন্ন হয়। আমির হোসেন ফাতেমার সাথে কথা বলে ঘটনার বাস্তবতা অনুমান করতে পেরে অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানকে বিষয়টি জানান। এর পরেই ফাতেমাকে কৌশলে থানায় ডেকে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফাতেমা অনায়াসে হত্যার কথা স্বীকার করে।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে ফাতেমা জানিয়েছে ঘটনার রাতে তার স্বামীর জন্ডিসের ওষুধের সাথে ৮টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেন তিনি। স্বামী গভীর ঘুমে থাকাবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়।

পরে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ৯ম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে জাহিদুল ইসলাম ফাহিমকে (১৩) ডেকে তুলে তার বাবা আত্মহত্যা করেছে বলে জানায়। দিনের বেলায় স্থানীয়দের বিষয়টি বিশ্বাস করাতে পারবে না বলে রাতেই বাড়ির পশ্চিম পাশের জমিতে মাটি চাপা দেবে বলে ছেলেকে রাজি করায়। এরপর মা ও ছেলে দু’জনে মিলে লাশ মাটি চাপা দেয়।