মেইন ম্যেনু

পরকীয়ার বলি : বাবা-মা থাকতেও এতিম ওরা ৩ ভাইবোন

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) থেকে : মা-বাবা দু’জনই জীবিত। অথচ এতিম ওরা তিন ভাই বোন। বাবা দেলোয়ার হোসেন জীবনের তাগিদে বিদেশ। মা খালেদা বেগম স্বামীর বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা দিয়ে নিজ নামে জায়গা-জমি, স্বর্ণালংকার সহ বিভিন্ন সম্পদের মালিক হয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

ফলে মা-বাবা দু’জনই জীবিত থাকা সত্বেও বড় ছেলে মো: তারেক হোসেন (১৮), মেয়ে রজনী খাতুন (১২) ও বিনা খাতুন (১০) মা বাবা দু’জনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা কোন কূল না পেয়ে অবশেষে বৃদ্ধ দাদা দাদির আশ্রয়ে রয়েছে। এই তিন ভাইবোন তার মাকে ফিরে পেতে বারবার আকুতি জানাচ্ছে আত্মীয় স্বজন ও প্রশাসনের কাছে । আলোচিত এই ঘটনাটি নওগাঁর পাশে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার মারমা পশ্চিমপাড়া গ্রামের।

খালেদার বাবা নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বেতগাড়ি গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, মেয়ে খালেদা বেগমের প্রায় ২০ বছর পূর্বে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার মারমা (পশ্চিম পাড়া) গ্রামের রহমানের ছেলে মো: দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে প্রায় ৮ বছর আগে জামাই দেলোয়ার হোসেন বিদেশে যান। মেয়ের সংসারে তারেক, রজনী ও বিনা নামের তিন সন্তানের জন্ম হয়। দেলোয়ার হোসেন বিদেশ থেকে খালেদার নামে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার পাঠান। সেই টাকা-পয়সা স্বর্ণলংকার নিজ হেফাজতে নিয়ে নিজের নামে কিছু জায়গা জমিও ক্রয় করে।

এ অবস্থায় খালেদার নামে থাকা জমি ও সম্পদের ওপর নজর পড়ে প্রতিবেশী আলতাব হোসেনের ছেলে বখাটে মো: শফিকুল ইসলামের (৩৮) । প্রেমের ফাঁদে ফেলে গত ১৮ মে শফিকুল খালেদাকে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে আদালতে এফিডেফিটের মাধ্যমে বিয়ে করে। খালেদা পালিয়ে যাবার সময় স্বামীর পাঠানো জমাকৃত নগদ ৩০ লাখ টাকা, নিজ নামে ক্রয়কৃত জমির দলিল, প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার (যার অনুমান মূল্য ৪লাখ টাকা) নিয়ে যায়। গত প্রায় ১৪দিন যাবত বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও খালেদার কোন সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে খালেদা কি অবস্থায় আছে এবং সে কি জীবিত না মৃত তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন পরিবারের লোকজনরা। আর মা, বাবা দু’জনকেই হারিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিনানিপাত করছে তিন সন্তান। প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম টাকা পয়সা, জমি, স্বর্ণ আতসাৎ করার জন্য খালেদাকে প্রলোভন দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন খালেদার বাবা আব্দুল খালেক ।

এব্যাপারে খালেদার ছেলে তারেক হোসেন আক্কেলপুর থানায় গত ২১ মে তারিখে শফিকুল ও তার ছোট ভাই সোহেল (২৫), বোন এলেরা বিবি (২৬) ও তার মা জহুরা বিবির নামে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও আজ পর্যন্ত খালেদার কোন সন্ধান দিতে পারেনি। শফিকুল ও তার পরিবারের লোকজন খালেদার সন্তানদের হত্যা করে লাশ গুম করা সহ নানা রকম ভয়ভীতি দিয়ে আসছে। যার কারণে তিন সন্তান ও স্বামীর পরিবারের লোকজন বর্তমানে ব্যাপক নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।

খালেদার বাবা আব্দুল খালেক জানান, খালেদার বর্তমান স্বামী শফিকুল বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের জন্য এ পর্যন্ত ৫টি বিয়ে করার ঘটনা ঘটিয়েছে। গত ২৫ মে শফিকুলের ৫ম স্ত্রী মোছা: রোকেয়া বিবি (২৯) কে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করার জন্য এবং দুই সন্তানকে ভোরপোষন না দেয়া এবং বর্তমান স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে পরকীয়া করে খালেদাকে বিয়ে করার জন্য আক্কেলপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

কিন্তু পুলিশ শফিকুলের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা নিয়ে আজ নীরব ভূমিকা পালন করছে। তারা অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করছে অর্থের বিনিময়ে। পুলিশ যদি অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে যায় তাহলে আমরা গরীব মানুষেরা কোথায় যাবো?

আক্কেলপুর থানার এসআই অভিযোগের তদন্তকারি কর্মকর্তা আকবর আলী জানান, শফিকুল ইসলাম আদালতে এফিডেফিটের মাধ্যমে খালেদাকে বিয়ে করেছেন। যেহেতু ২ জনই পুর্নবয়স্ক সেখানে অপহরনের অভিযোগ সঠিক নয়। বর্তমানে খালেদা শফিকুলের সাথে ঘর সংসার করছে।

হুমকির বিষয়ে কোন অভিযোগ নেই অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসআই আকবর আলী আরো বলেন, বর্তমানে খালেদার কাছে থাকা অর্থ, সম্পদ অর্ধেকটা হলেও তার সন্তানদের দেয়ার জন্য এলাকাবাসি ও স্বজনরা উদ্দ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু এখনও খালেদা তার হেফাজতে থাকা সম্পদ সন্তানদের দেননি।

খালেদার ছেলে তারেক হোসেন বলেন, আমরা কোন কিছু চাই না, আমরা তিন ভাই বোন আমাদের মা বাবাকে কাছে পেতে চাই। তিন সন্তানের এই আকুতি কি পৌছাবে নিজেদের সুখ শান্তির মোহে আচ্ছন্ন এই পাষন্ড মা’র কাছে!