মেইন ম্যেনু

পরকীয়া: শিক্ষা নিন জীবন থেকে

বিশ বছরের সংসার জীবন। স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান একটু বেশি। স্বামীর মানসিক অবস্থা বড় অসহায়। কেননা স্ত্রী এখন আর তার সংসারে থাকতে চাইছে না। সে এখন আর তার চার সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে চাইছে না।

আকাশকে (ছদ্দনাম) নিয়ে আবার নতুন ভাবে সংসার শুরু করতে চাইছে সে। দুই সন্তানের জনক আকাশ তার গাড়ীর ড্রাইভারের কাজ করতো। নিজের মান-সম্মান, সমাজ-সংস্কার, পরিবার-পরিজন সব কিছুই এখন তার কাছে অর্থহীন হয়ে গেছে। আকাশের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা, শক্তিশালি লাভ অবসেশন (love obsession) সব কিছু ছাড়তে বাধ্য করছে। বাস্তবতার বাইরে গিয়ে শুধু আকাশের মুখচ্ছবি দেখেই জীবন কাটিয়ে দিতে পারবে বলে মনে করে সে। বিশ বছরের জীবনে স্বামীকেও প্রচন্ড ভালোবাসতো সে। কিন্তু এই সম্পর্ক একেবারে পানসে হয়ে গেছে যে, ভালো লাগেনা স্বামীকে এতটুকুও।

সংসার জীবনে স্বামী-শাশুড়ি কর্তৃত্ব পরায়ণ, রাগী, খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে খিটমিটে আচরণ তাকে প্রচন্ড ভাবে আঘাত করতো। কিন্তু সে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতো না। নীরবে সহ্য করেছে সব। সে মনে করে তার এই মানসিক ভাবে দূরে সরে যাওয়া, অন্যের প্রতি ভালোবাসায় আসক্ত হওয়ার মূলে এই বিষয়গুলোও দায়ী। স্বামী এখন অনুশোচনায় ভুগছে। স্ত্রীর প্রতি সহযোগীতা, সহমর্মীতা, দায়িত্বশীলতা, ভালোবাসা অনেক কিছুই দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু এগুলো এখন আর আকর্ষণ করে না অনন্যাকে (ছদ্দনাম)। তথাপি সে একবার ভাবে ঘর ছাড়বে, আরেকবার ভাবছে তার ছয় বছরের মেয়েটি আরেকটু বড় হলে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে কিনা? প্রতিষ্ঠিত বিত্তশালী স্বামীর ছায়াতলে থাকা এই বিলাসী জীবন ছেড়ে সমাজের নিম্নবিত্তের জীবন মেনে নিতে পারবে কিনা? যে মানুষটির প্রতি অন্ধ ভালোবাসায় সব ছাড়তে বসেছে, ব্যক্তিগত জীবনে মানুষটি কেমন হবে? ইত্যাদি নানা চিন্তা ও দ্বন্দ্বে পড়ে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সার্বক্ষণিক নিজের সাথে যুদ্ধ করে চলেছে। বাস্তব ভিত্তিক জ্ঞানীয় মনটাকে (wise mind) ব্যবহার করতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে। স্বামীর ইতিবাচক কাজ, ভালোবাসা, উন্নত জীবনের জন্য পরিশ্রম কিছুই মূল্যায়ণ করতে পারছে না সে।

ভদ্রলোক দুঃখ করে চিকিৎসককে বলেছিলেন, ম্যাডাম আমার স্ত্রী এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি দুটোতেই খুব ভালো রেজাল্ট করেছিলো। কিন্তু উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে দেইনি কারণ যদি সুন্দরী এই নারী বাইরের পরিবেশে গিয়ে অন্য কারো সাথে জড়িয়ে যায়। অথচ আজ বিশ বছর সংসার জীবন অতিক্রম করার পর ঘরের ভেতরে থেকেও সমস্যা হলো। আত্মিক উন্নতি সাধনের জন্য লেখাপড়ার গুরুত্ব কতটুকু এখন সে উপলব্ধি করতে পারছে। অর্থ, প্রাচুর্য, গাড়ী-বাড়ী সর্বোপরি একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক জীবনের জন্য কত পরিশ্রমই না করেছে সে। অথচ আজ সেই সংসারই মাঝিহীন নৌকায় পরিণত হতে চলেছে। এই ভাবনাগুলো তাকেও নানা ভাবে উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে।

জীবন থেকে শিক্ষা নেয়া জরুরি। আইনের সম্পর্কগুলোর যত্নের প্রয়োজন হয়, অন্যথায় অনাদর, অবহেলায় একটু একটু করে যখন মন বিদ্রোহী হয়ে উঠে তখন আর রক্তচক্ষুতেও কাজ হয় না। পরকীয়ায় আক্রান্ত হলে নীতি নৈতিকতা ও আদর্শের ভিত্তি দূর্বল হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক আনন্দ লাভের ইচ্ছাটাই বড় মনে হয়। পরবর্তী পরিণাম কী হবে তা মাথায় আসে না। প্রেমের টান, মনোদৈহিক অস্থিরতায় কোনো কিছুই ভালো লাগে না। তখন পুরাতন এবং নতুন কোনো সম্পর্কই ভালো যায় না।

শিক্ষিত, অল্পশিক্ষিত, অশিক্ষিত নির্বিশেষে পরকীয়ায় জড়িয়ে যেতে পারে। তাই জীবনে চলার পথে এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হলে মনকে নিয়ন্ত্রণ করে নেয়ার শক্তি অর্জন খুবই প্রয়োজন।

লেখক: পারভীন বেগম