মেইন ম্যেনু

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র: এক মাসের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি

আগামী এক মাসের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেল কনট্রাক্ট স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এ ছাড়া প্রকল্পের জন্য যে ২৫০ জন দেশীয় বিশেষজ্ঞকে রাশিয়া প্রশিক্ষণ দেবে তাদের আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠাতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে রাশিয়ার পরমাণু শক্তি কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এন স্পাস্কির নেতেৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎ শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন।

গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ৫৯তম বৈঠকে ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আইন ২০১৫’ খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি অথরিটির নির্দেশিকা অনুসারে বিদুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনায় ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি অব বাংলাদেশ’ নামে একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির আর্থিক, কারিগরী এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধানে সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়ান ফেডারেশন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমের অধীনস্থ সংস্থা এনআইএইপির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশের রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তা ম্যাকসিম ভি এলচিসেভ সম্প্রতি বলেছেন, রূপপুর হবে বর্তমান সময়ের আধুনিক, নিরাপদ ও অর্থসাশ্রয়ী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রূপপুরে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সমীক্ষা শেষ হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ আছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের প্রকল্প এটি। দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের চেহারাই বদলে যাবে। আমাদের মতো দেশের পক্ষে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন দুঃসাহসের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। ইনশাল্লাহ, সবকিছু ঠিকমতো চললে আগামী ২০২২ কিংবা ২০২৪ সালে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে রাশিয়া প্রস্তাবিত দু’ইউনিটের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি স্বাক্ষর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে মূল ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হবে আগামী বছরের এপ্রিলে। এরই মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ৫০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। তা দিয়ে প্রকল্প এলাকায় কাজ হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রকল্পে মোট ব্যয়ের মধ্যে আমাদের দিতে হবে মোট খরচের ১০ শতাংশ। ৪ শতাংশ সুদে এ ঋণ নেওয়া হবে। ১০ বছর গ্রেস প্রিরিয়ডসহ মোট ২৮ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগ বেশি হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এর সুদুরপ্রসারী ফলাফল পাওয়া যাবে। এ বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় মনে হলেও বিশ্ব ভাবনায় এটা খুব একটা বড় বিনিয়োগ নয়।

রাশিয়ান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি বলেছি, রাশিয়ার সঙ্গে করলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তারা এক বছর প্রকল্প পরিচালনা করবে। এর পর আমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এজন্য পরিচালনা, জ্বালানি সরবরাহ, বর্জ্য নিষ্কাশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে নতুন করে চুক্তি করতে হবে।

তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রাশিয়া এক বছর চালাবে। এর পর আমাদের চালাতে হবে। প্রথম বছর যে পরিমাণ জ্বালানি লাগবে, পরের বছর থেকে তা কম লাগবে।