মেইন ম্যেনু

পরিচয় সংকটে জাতীয় পার্টি

জাতীয় সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য মন্ত্রিসভা থেকে সরে আসতে বিভিন্ন বক্তৃতায় প্রায়ই নেতাদেরকে নির্দেশ দেন দলের চেয়ারপারসন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আবার গোপনে মন্ত্রিসভায় দলের সদস্য সংখ্যা বাড়াতে জোর তদবির-লবিংয়ে শামিল হচ্ছেন তিনি। এক নিকটাত্মীয়কে মন্ত্রিসভায় নিতে নানা জনের কাছে অনুরোধ করেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, ‘জাতীয় পার্টির মত সুবিধাভোগী দল বর্তমানে দেশে একটাও নেই। যারা সরকারের সফলতার গানও গায় এবং সমালোচনাও করে’।

এই নেতা বলেন, ‘সরকারে সফলতার কথা বললে জনগণ আমাদের বলে আমরা দালালি করছি। সমালোচনা করলেও বলে আমরা দালালি করছি। নেতাদের এই দালালির কারণে জাতীয় পার্টি তাদের লক্ষে পৌঁছাতে পারছে না’।

এভাবে একই সঙ্গে সরকার এবং বিরোধী দলে থাকায় জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা কথা আছে। দলের ভেতরেই একাধিক নেতা মনে করেন, যতই বলা হোক, মন্ত্রিসভায় থেকে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করা সম্ভব নয়। গত দেড় বছরে এটা বারবার প্রমাণ হয়েছে। এ কারণেই এরশাদ বারবার বললেও রাজনীতিতে কোনো অবস্থান তৈরি করতে পারছে না জাতীয় পার্টি।

জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব রিন্টু আনোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৯১ পরবর্তী সময়ে আমরা কখনও স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারি নাই। কোন সরকারই আমাদের সে সুযোগ দেয় নাই। আমাদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ-বিএনপির অবস্থান একই। মূলত এ কারণেই আমরা সেভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংগঠিত হতে পারিনি’।

তবে এরশাদের আশা, জাতীয় পার্টি হবে দেশের মূল দল, আশা আকাঙ্খা পূরণে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকেই ভোট দিবে জনগণ। তবে জাতীয় পার্টির নেতারাই বিশ্বাস করেন না দলের প্রধানের এই বক্তব্য।

এক নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। একদিকে আওয়ামী লীগ এবং একদিনে আওয়ামী লীগ বিরোধী। বিএনপি দুর্বল হয়ে গেলে আওয়ামী বিরোধীরা জাতীয় পার্টিতে আসবে, এমন আশা থেকে হয়ত এরশাদ এমন কথা বলছেন। কিন্তু জাতীয় পার্টি কি আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানে আছে? তাহলে কেন আওয়ামী লীগ বিরোধীরা এই দলে আসবে?’।

এই নেতার সঙ্গে একমত খোদ এরশাদের ছোট ভাই ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জি এম কাদের।  তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেশের মানুষের প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় পার্টি নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা ও সহানুভূতি আছে কিন্তু উপায়হীনতার কারণে তারা বড় দুই দল থেকে সরে আসতে পারছে না। তবে সেটা চিরস্থায়ী হবে না সঠিক রাজনীতি করে জাতীয় পার্টি আবারো তাদের অবস্থানে ফিরে আসবে’।

জি এম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এ অবস্থা দলের কারণে নয়, বাহির থেকে কেউ দলে প্রভাব বিস্তার করছে। আর সেটাতে ইন্ধন দিচ্ছে দলের সুবিধাভোগী কেউ’।ঢাকাটাইমস২৪