মেইন ম্যেনু

পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর চীন ও আমেরিকা: ডিক্যাপ্রিও

পরিবেশ আন্দোলনের জন্য বিশ্বে এই মুহূর্তে যে ক’জন পরিবেশবীদের নামের তালিকা পাবেন, তাদের মধ্যে একটি নাম শুনলে হয়তো ভিমড়ি খেতে পারেন যে কেউ! কারণ পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে এই মুহূর্তে সবচেয়ে উচ্চকিত স্বর যার থেকে বের হয়, তিনি যে বিশ্বখ্যাত তারকা অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও! জলবায়ু পরিবর্তনে তার সাম্প্রতিক সময়ে তার ভূমিকা পুরো বিশ্বে প্রশংসিত।

শত ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবেশ আন্দোলনে বরাবরই সোচ্চার সদ্য অস্কারজয়ী তারকা অভিনেতা ডিক্যাপ্রিও। প্রথমবার অস্কারজয়ের পর সবার উদ্দেশে যখন ভাষণ দিতে উঠলেন ডিক্যাপ্রিও, তখনও তার মুখ থেকে অধিকাংশ কথা শোনা গেছে পরিবেশ আর জলবায়ু আন্দোলনের সুফল ও কুফল নিয়ে। ভাষণেও তিনি বিশ্বের সকল গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশের প্রতি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি গ্রহণ করতে আহ্বান জানিয়ে ছিলেন।

সদ্য চীনে গিয়েছিলেন ডিক্যাপ্রিও। সেখানে গত শুক্রবার থেকে চলছে তার অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য রেভিনেন্ট’। ছবিটি এরইমধ্যে চীনে ১৫ লাখ ডলার আয় করে নিয়েছে। আর এই ছবিটিকে প্রমোট করতে গিয়েই বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ু নিয়ে কথা বলেন তিনি। সম্মেলনের এক পর্যায়ে ডিক্যাপ্রিও বিশ্বে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর দেশ চীন ও আমেরিকাকে উল্লেখ করে তাদেরকেই এই আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান করেন।

ডিক্যাপ্রিও তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের অন্যতম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন। জলাবায়ুর জন্য আমি বিশ্বাস করি যে চীন শিগগিরই গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো শুরু করবে, এবং পরিবেশ বান্ধব কোনো বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনই পারে এমন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে।

জলবায়ু আন্দোলনে চীন ‘হিরো’ হওয়ার যোগ্যতা রাখে জানিয়ে ডিক্যাপ্রিও আরো বলেন, নিরাপদ পরিবেশ তৈরির যে অগ্রযাত্রা, আমি বিশ্বাস করি তার ‘হিরো’ হওয়ার যোগ্যতা রাখে চীন। পরিবেশ আন্দোলনে চীনই সবচেয়ে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা, ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়, সবুজ বন উজাড়, কার্বন গ্যাসের উদ্গিরণের ফলে পৃথিবীর অস্তিত্ব আজ ভয়াবহ সংকটের মুখে। আর এমন সময়ে সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন হওয়ার যে আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত করেছেন ‘টাইটানিক’ খ্যাত তারকা অভিনেতা, তা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।

অতীতেও একাধিকবার চীনে ভ্রমন করেছেন ডিক্যাপ্রিও। প্রতিবারই হলিউডের এই তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতাকে স্বসম্মানে বরণ করেছেন চীনের আপমার জনতা, ভক্ত ও অনুরাগীরা। এর আগেও ডিক্যাপ্রিওর ‘টাইটানিক’ সিনেমাটি চীনের প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হয়েছে। চীনা ভক্ত অনুরাগীরা নাকি লিওনার্দোকে ভালোবেসে ‘জিয়াও লি’ মানে ছোট লি বলে ডাকেন!