মেইন ম্যেনু

পরিসর বাড়লো দ্বৈত নাগরিকত্বের, এমপি-সরকারি চাকুরের জন্য নিষিদ্ধ

সাধারণ নাগরিকরা দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে পারবেন তবে প্রজাতন্ত্রের কর্মী এবং সংসদ সদস্যরা এই সুবিধা নিতে পারবেন না। এছাড়া মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিক হলে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নাগরিকত্ব আইন- ২০১৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা। ফলে সাধারণ নাগরিকদের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ আরো বিস্তৃত হচ্ছে।

সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ আইনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিক হলে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকার অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো বাংলাদেশি সার্কভুক্ত দেশ বা মিয়ানমারের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে পারবে না। কেউ বিয়ের সূত্রে এসব দেশের কোনোটির নাগরিক হলে তাদের এক দেশের নাগরিকত্ব ছাড়তে হবে। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাষ্ট্র ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সর্ম্পক আছে এমন সব দেশের সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে পারবেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। তবে বিচারপতি, সংসদ সদস্য, সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি, বিভিন্ন বাহিনীসহ প্রজাতন্ত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা দ্বৈত নাগরিক হতে পারবেন না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব জানান, বাংলাদেশে নাগরিকত্ব প্রদান, নাগরিকত্ব বাতিলসহ প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ন্ত্রণে ‘দ্য বাংলাদেশ সিটিজেনশিপ (টেম্পোরারি প্রভিশনস) অর্ডার, ১৯৭২’ বলবৎ রয়েছে। এ সংক্রান্ত মূল আইন হচ্ছে ‘দ্য সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট, ১৯৫১’। বহিরাগমন, নাগরিকত্ব অর্জন, সংরক্ষণ, পরিত্যাগ, অবসান ইত্যাদি বিষয়ের সমাধান দেয়া এ দু’টি আইনে সম্ভব হচ্ছে না। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দু’টি আইন একীভূত করে নতুন এ বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন, ২০১৬ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগের দু’টি আইনের অসম্পূর্ণতা ও পুরনো বিষয়গুলোকে পুনর্বিন্যস্ত করে নতুন আইনটি করা হচ্ছে। আইনে ছয়টি অধ্যায় আছে। এগুলোর মধ্যে আছে নাগরিকত্ব অর্জনের পদ্ধতি, নাগরিকত্বের অযোগ্যতা, পরিত্যাগ, অবসান ইত্যাদি। এ নিয়ে ২৮টি ধারা রয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত বা অভিযুক্তদের নাগরিকত্ব থাকা না থাকার বিষয়ে আইনটিতে সরাসরি কিছু বলা হয়নি।

মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, নতুন এ আইনে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আগে আমেরিকা বা যুক্তরাজ্য- এ দু’টি দেশের নাগরিকদের দ্বৈত নাগরিক হওয়ার সুযোগ ছিল। তারা ওই দু’টি দেশের নাগরিকও হতে পারেন, বাংলাদেশেরও নাগরিকত্ব চাইতে পারেন। এখন সেটাকেই অনেক সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, নতুন আইনে সার্কভুক্ত দেশ, মায়ানমার বা সরকার কর্তৃক গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা নাগরিকত্ব গ্রহণের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত রাষ্ট্র ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সর্ম্পক রয়েছে এমন যেকোনো রাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।

তবে কোনো ব্যক্তি বিচারক, জাতীয় সংসদ সদস্য বা সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে বা প্রজাতন্ত্রের অসামরিক কর্মে নিয়োজিত থাকাকালে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না।

দ্বৈত নাগরিকরা জাতীয় সংসদের সদস্য পদে নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন, বিচারকসহ প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মে নিয়োগ লাভ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন করতে পারবেন না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব জানান, এ আইনের আওতায় কোনো বিদেশি নাগরিককে সামাজিক, বিজ্ঞান, সাহিত্য, বিশ্বশান্তি, মানব উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশেষ যোগ্যতা কিংবা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করা যাবে।

আইনে আরো বলা হয়েছে- কোনো বিদেশি নাগরিককে বৈবাহিক সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেতে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫ বছর বসবাস করতে হবে। বিদেশি কোনো নাগরিক বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তারা নির্বাচন বা প্রজাতন্ত্রের কোনো কাজে নিয়োগও পাবেন না।

কোনো ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকের ক্ষেত্র ছাড়া যদি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আনুগত্য প্রকাশ করেন, বিদেশি রাষ্ট্রের কোনো বাহিনীতে যোগদান করেন বা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা অন্য কোনোভাবে অন্য দেশকে সহায়তা করে থাকেন এবং এমন কোনো রাষ্ট্রের নাগরিক যে রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল বা আছে এবং বাংলাদেশে বেআইনি অভিবাসী হিসেবে বসবাস করেন বা করে আসছেন এ জাতীয় ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তিরা বিধি নির্ধারিত নিয়মে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে নাগরিকত্ব পরিত্যাগকারীর নাবালক সন্তানদেরও নাগরিকত্ব বাতিল হবে। নাগরিকত্ব পরিত্যাগকারীদের কেউ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে চাইলে আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সরকার আবেদনের যৌক্তিকতা বিবেচনা করে নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করতে পারবেন।

আইন অমান্যের সাজার বিষয়ে তিনি জানান, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করে এ আইনের অধীনে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অপরাধের জন্য অপরাধী অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানা বা অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

১ লাখ টাকার বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয় যে, ৫ বছরের তুলনায় ১ লাখ টাকা খবুই কম হয়। সেক্ষেত্রে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে আরেকটা বৈঠক হবে। সেখানে ছোটখাটো বিষয়গুলো সংশোধন করা হবে। সেক্ষেত্রে এই ১ লাখ টাকা বাড়িয়ে আরো বেশি পরিমাণ অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হতে পারে।