মেইন ম্যেনু

পর্নো সাইট ও একটি মেয়ের জীবন!

নিজের মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়েছে লিন্ডসে মেলিয়াকে(২৯)। এর কারণ হচ্ছে একটি ভিডিও। বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে এক বন্ধু এই কাজটি করেছে। ভিডিওতে এক ছেলেবন্ধুর সঙ্গে লিণ্ডসে মেলিয়ার অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো রয়েছে।আর এটা জানার পর থেকেই লিন্ডসে মানসিকভাবে ভেঙ্গেন।

ভিডিওটি আপলোড করেন তার সাবেক প্রেমিক পল ডিকেনসন(৩৪)।তবে বহু চেষ্টার পর অবশ্য ভিডিওটি ইউটিউব থেকে শেষ পর্যন্ত সরাতে সক্ষম হয়। তবে তার আগেই সে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।

লিন্ডসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ পল ডিকেনসনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে পল ব্যক্তিগত এবং শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও আপলোড করার কথা স্বীকার করে। পরে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং লিন্ডসের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে নিষেধ করে দেয়।

লিন্ডসে মেলিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, পলকে যে শাস্তি দেয়া হয়েছে তা যুক্তরাজ্যে ইতিহাসে এ সংক্রান্ত মামলায় সবচেয়ে বেশি। পলকে কারাগারে পাঠানো হলেও আমার আত্মবিশ্বাস ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। আমি এখনো ঘর থেকে একা বের হতে ভয় পাই। সবসময় মনে হয়, ভিডিও দেখেছে এমন কেউ আমাকে দেখে ফেলবে। মনে হয়, সবাই এই ব্যাপারটা জানে। আমি খুবই ভীত। পল আমার সুন্দর জীবনটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সে আমাকে পর্নো স্টার বানানোর চেষ্টা করেছে। যদিও ভিডিওটা শেষ পর্যন্ত সরাতে সক্ষম হয়েছি। আমি আর কখনো নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারব না।

যুক্তরাজ্যে ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত এ সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা এক হাজার ৬০০টি। তারমধ্যে ৩৭৮ জন কিশোর-কিশোরী। যুক্তরাজ্যে কারো ব্যক্তিগত বা যৌন সম্পর্কের ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

লিন্ডসে মেলিয়ার দাবি, আরও বেশি শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। কারণ এটি একজন মানুষের জীবনকে শেষ করে দেয়।

২০০৬ সালে ফেরিহিলে লিন্ডসের সঙ্গে পলের প্রথম দেখা হয়। তখন লিন্ডসের বয়স উনিশ। এরপর তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং একসঙ্গে বসবাস শুরু করে। আট বৎসর তারা একসঙ্গে ছিলেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। পল তার সঙ্গে প্রতারণা করায় লিন্ডসে সম্পর্কের ইতি টানেন। কিন্তু পল এটি মেনে নিতে পারেননি। সে লিন্ডসের কাছে ক্ষমা চায় এবং ফিরে আসার ইচ্ছা পোষণ করে। লিন্ডসে তাতে অস্বীকৃতি জানালে পল প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তাদের যৌন সম্পর্কের ভিডিও পর্নো সাইটে ছেড়ে দেয়। সূত্র: দ্য সান।